আমাদের বাংলাদেশ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

1174
AdvertisementCBN-Leaderate

নয়ন চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার আসলে বোকা, জাফর ইকবাল স্যার বোকা বলেই নিজের ভালো চান না, আর ভালো চান না বলেই পশ্চিমা বিশ্বের সকল দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং প্রতিষ্ঠানে নিজেকে সঁপে না দিয়ে এদেশে এসেছেন ছুরির আঘাত মাথায় নিতে।

ওনারা বোকা বলেই ২০১৫ সালে যখন উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন চলছিল, তখন স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরাগভাজন হয়েছিলেন, ছাত্রলীগের হামলার শিকারও হয়েছিলেন এই দম্পতি। তারপরও থেমে থাকেননি। এরপরও ওনাকে বিভিন্ন হুমকি ধমকি।

আচ্ছা এই হামলাকারী স্যারের পেছনে কীভাবে ছিল? আয়োজকেরা পেছনের সারিতে দাঁড়ায় এটা জানি, তাহলে হামলাকারীকে যে অজ্ঞাত বলছে একে কি কেউ খেয়াল করেনি, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তখনের অবস্থান নিয়ে দুর্বলতার কথাও উঠছে, সব মিলিয়ে গাফলতি এড়ানোটা এখানে খুব সাংঘর্ষিক। এভাবে যদি নিরাপত্তা দুর্বল হয় তাহলে এসব প্রগতির প্রতীকগুলো হারিয়ে যাবে।  মেধাশূন্য হয়ে যাবে দেশ।

আজ কী উদ্দেশ্যে হামলা করেছে তা অজানা। তবে একটি জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানে হামলাকারীর নাম প্রকাশ করেছে ফজলুল রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে কুমারগাঁওয়ের বাসিন্দা, সে মাদ্রাসার ছাত্র। এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিক তদন্তে বেরিয়ে আসবে, যদি সদিচ্ছা থাকে। ড. জাফর ইকবাল স্যার হুমকি তো তিনি আগেও অনেকবার পেয়েছেন, কিন্তু এই লোকটি এত সাদাসিধে যে এসবকে পরোয়া করেননা, আনসারুল্লাহ বাংলার টিম এবিটি হুমকি দিয়েছিল তাকে আর তার স্ত্রীকেও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে অসংখ্যবার।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার তারুণ্যের চেতনা। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল অসাম্প্রদায়িকতার স্লোগান। এই স্লোগান তারাই ভয় পায় যারা পেছন থেকে ছুরি মারে।  এই চেতনাকে তারা মোকাবেলা করতে পারে না তাই তারা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ‘নাস্তিক, কতল করা হোক, ইসলামের শত্রু, ফালতুলোক, ভালোকাজ করেছে হামলাকারী’ এসব বলে প্রচারণা চালাচ্ছে।

আচ্ছা একটা প্রশ্ন, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল কেন নাস্তিক? কেন ইসলামের শত্রু?

আচ্ছা জাফর ইকবাল স্যারকে নিয়ে দেখছি এও বলাবলি করছে ওনার লেখার সমস্যা আছে!

আচ্ছা কী সমস্যা আছে? একটু বলুন। আসল কথা হলো বিজ্ঞান যারা বুঝে না, তারা সায়েন্স ফিকশন কি বুঝবে। স্যার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখেন, এটা বড় সমস্যা। এটা উগ্রবাদীরা পছন্দ করেনা।  ছোটদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেন, স্যার সকল অন্যায়ে ওনার লেখনি অব্যাহত রাখে ন, এটাই বিরোধীদের আসল সমস্যা।

বাংলাদেশে কয়জন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল আছে? কয়জন? বিজ্ঞানী জাফর ইকবাল একজন। শাবিপ্রবিকে নিজ সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন, বারবার লাঞ্ছিত হয়েছেন, অপমানিত হয়েছেন, বিরোধীদের ষড়যন্ত্রে পড়েছেন। জঙ্গীদের রোষানল এখনো বিদ্যমান।  সেই জাফর ইকবাল স্যার আজ শাবিপ্রবিতে রক্তাক্ত।  এই রক্তের ঋণ কার? এই দায় কার?

লজ্জা লজ্জা। বাংলাদেশ লাল সবুজের দেশ। এই দেশে শকুন বারবার আঘাত হানে, প্রগতিশীলদের রক্তাক্ত করে। হুমায়ূন আজাদ রক্তাক্ত হয়েছিল এরপরে বাংলাদেশের অবস্থা ধীরে ধীরে পতিত হয়েছিল ঘোর অমানিশায়।

এ কোন দুর্যোগের ঘনঘটা? ভালোই চলছিল কিছুদিন, আবার শুরু এসব কি?

কী চায় তারা? এরা কারা? বাংলাদেশকে আঘাত করলো কেন? পেছনে কারা? দয়াকরে প্রশাসন এদের সামনে আনুন, না হয় এরাই চিতা জ্বালাবে প্রগতির, এরাই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাকে শ্মশান করতে মরিয়া। সামনে আনতে হবে এদের নির্দেশদাতাকে।

হুম ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল মানে বাংলাদেশ, আর বাংলাদেশ মানে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। স্যার আমাদের অনুপ্রেরণা,  অনেক ভালোবাসি আমাদের বাংলাদেশকে অনেক।

লেখক: সাংবাদিক, এটিএন নিউজ
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
CBN-Leaderate