কানাডায় খুনি নূর চৌধুরী, পর্ব-৪

517
AdvertisementCBN-Leaderate

[কবি, সাংবাদিক এবং গবেষক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নানামুখী গবেষণা করেছেন। তাঁকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন, গল্প লিখেছেন, নাটক লিখেছেন, প্রবন্ধ লিখেছেন, সম্পাদনা করেছেন। রচনা করেছেন ৬/৭টি গ্রন্থ। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য- ‘কানাডার কাশিমপুরে খুনি নূর চৌধুরী’। এই বইটি খুনি নূর চৌধুরী সম্পর্কে তথ্যপ্রমাণসহ এক অজানা দলিল। বইটির তিনটি সংস্করণ বের হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সেই বইয়ের কিছু নির্বাচিত অংশ CBN24-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হলো।  -সম্পাদক]

পর্ব-১ পড়ুন এই লিঙ্কে: কানাডায় খুনি নূর চৌধুরী, পর্ব-১
পর্ব-২ পড়ুন এই লিঙ্কে: কানাডায় খুনি নূর চৌধুরী, পর্ব-২
পর্ব-৩ পড়ুন এই লিঙ্কে: কানাডায় খুনি নূর চৌধুরী, পর্ব-৩

নকল নূর চৌধুরী, তার রিফ্যুজি ক্লেইম এবং কিছু তথ্য

লন্ডনস্থ একটি সংবাদ সংস্থা দাবি করছে, সে (নূর চোধুরী) ‘এখলাসুর রহমান’ নাম ধারণ করে ২৬/২৭ বছর ধরে পূর্ব লন্ডনের ডকল্যান্ডের ওয়েস্টফেরিতে ভাতিজির সঙ্গে বসবাস করছে, ব্রিকলেনে ‘হাজি’ হিসেবে জুমার নামাজ পড়েছে, স্থানীয় মাঠে সামরিক কায়দায় ব্যায়াম করেছে, কাপড়ের দোকানে কর্মরত ছিল ইত্যাদি। তাতে মনে হয়, নূর চৌধুরী যুক্তরাজ্যে। (দ্র. ১৬ আগস্ট ২০১০, ইউকেবিডি নিউজ, লন্ডন)

তবে লন্ডনস্থ ইউকেবিডি ডট কম নামের এই অনলাইন পত্রিকা নানা অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তার সঙ্গে তাল দিয়ে সেই ভুয়া খরবগুলো ঢাকার কোনো কোনো দৈনিক এবং টরন্টোর কয়েকটি স্থানীয় বাংলা মিডিয়াও অপপ্রচার শুরু করে। এমনকি তারা নকল নূর চৌধুরীর ছবিও ছাপে! এর পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র!

38857343_256731114940412_1602028466469863424_nঅভিযুক্ত রাষ্ট্রদূত টুকু এবং ইয়াকুব

নূরের কানাডায় থাকার পেছনে প্রাক্তন দুই হাইকমিশনারের ভূমিকা আছে। তারা হলেন খন্দকার মোশতাকের পালিত পুত্র রফিকুল ইসলাম টুকু এবং নূরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ইয়াকুব আলী। টিপু তাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়েছেন! পরেও সহযোগিতা করেছেন, পরবর্তী সময়ে ইয়াকুব আলী। নানান কেলেঙ্কারিতে জড়িত আর দুর্নীতিগ্রস্ত ইয়াকুব আলীর উদ্যোগ বা ভূমিকা ছিল খুবই রহস্যজনক!

তাই, (ক) বিতর্কিত হাইকমিশনারের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০০৯-এ গণস্বাক্ষরিত চিঠিও দিয়েছেন। তাতে তারা অভিযোগ করেছেন :

Meeting and maintaining very colse relation with the killers of ours Father of the nation:

*We, the Citizen of Bangladesh, feel very upset and sad when we saw the representative of the Govermment Mr. Yakub Ali had a meeting with the killers of “Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman” Lt. Cor (Rtd. ) Noor Chowdhury and Capt. (Rtd.) Nasmul Hossain Answer in the Embassy premises next day of Edu-ul-Fitr 2008,

চিঠিতে তারা আরো উল্লেখ করেছেন, হাইকমিশনার যুদ্ধাপারাধী রাজাকার-আলবদরদেরও বিজয় দিবস অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর ২০০৮-এ তাঁর বাস ভবনে নিমন্ত্রণ জানিয়ে আপ্যায়ন করেন।

*Meeting with the people who were against the spirit of our liberation war and the the people allied with Jamaet-E-Islam who are funding the money for terrorist attacks in Bangladesh.

অটোয়ার প্রবাসী বাঙালিরা ১৫ আগস্ট ২০১১ পার্লামেন্ট ভবনের সামনে মানববন্ধন করে (সাজাপ্রাপ্ত খুনি নূর চৌধুরী, জেল হত্যার দুই আসামি কিসমত হোসাইন ও নাজমুল আনসার এবং ছদ্মনামে লুকিয়ে থাকা কজন যুদ্ধাপারাধীকে খুঁজে বের করে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করে) প্রধানমন্ত্রী হারপারসহ সব মন্ত্রীর কাছে বহিষ্কারের স্মারকলিপি কর্মসূচি অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার ইয়াকুব আলীকে নিমন্ত্রণ জানালে তিনি তার জবাবও দেননি।

এই গ্রন্থ রচনার জন্য তৎকালীন হাইকমিশনার ইয়াকুব আলীকে দু-দুবার কিছু তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও তিনি সারা দেননি। কারণ, তাঁর সঙ্গে নূর চৌধুরীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল খুবই ঘনিষ্ঠ। একাধিক বার দূতাবাসে নূরের সঙ্গে ইয়াকুব আলী বৈঠক করেছেন।

তাই দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন কানাডা সফর শেষে ঢাকায় গিয়ে রিপোর্ট করলেন, (খ) অভিযোগ পাওয়া গেছে, নূরের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভূমিকা অস্বচ্ছ ও অস্পষ্ট। কানাডিয়ান কমিটি ফর হিউম্যান রাইটস ইন বাংলাদেশের আহ্বায়ক ড. মোজাম্মেল হোসেন খানও এ প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, মূলত হাইকমিশনের গাফিলতির কারণেই নূরের দেশে ফেরার বিষয়ে দীর্ঘ সময়েও অগ্রগতি হয়নি। *(দ্র. দৈনিক যুগান্তর, ৩১ অক্টোবর ২০১০, ঢাকা।)

টরন্টোর সাপ্তাহিক আজকাল গত আগস্ট ২০, ২০১০ সংখ্যায় সম্পাদকীতে একই ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছে, (গ) যেসব খুনি বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের যেকোনো মূল্যে দেশে ফেরত পাঠানো অতীব জরুরি। খুনি নূর চৌধুরী পালিয়ে আছে এই টরন্টো শহরেই আর এদের মদদ জোগাচ্ছে একশ্রেণির বাঙালি, যারা ছিল স্বাধীনতার বিপক্ষশক্তি। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তারা গোপনে কানাডা সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে, যাতে নূর চৌধুরীকে কোনোভাবেই দেশে ফেরত পাঠানো না হয়। প্রতিহত করতে হবে এই অপশক্তিকে। এর দায়দায়িত্ব এখানকার বাংলাদেশ হাইকমিশনের, কিন্তু যেকোনো কারণে তারা এ ব্যাপারে নিষ্ক্রীয় ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে। (ঘ) শোকসভা ও সমাবেশের আয়োজকরা তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করেন, অটোয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এ ব্যাপারে কোনো সারা দেয়নি, সহযোগিতাও করেনি। তাই তারা বিতর্কিত হাইকমিশনার ইয়াকুব আলীকেও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জানান। *(দ্র. রেডটাইমস বিডি ডটকম, ২২ আগস্ট, ঢাকা।)

(ঙ) হাইকমিশনের অসহযোগিতামূলক আচরণের জন্য অনেকেই তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ। নভেম্বর ১২, ২০০৯-এ টরন্টোস্থ ড্যানফোর্থের কাবাব হাউসে এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “হাইকমিশনের ভূমিকা নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বাস্তব তথ্য আড়াল করে তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন কি না, খোদ কানাডা আওয়ামী লীগই এই প্রশ্ন তুলেছে”। *(দ্র. অনলাইন নতুন দেশ, ২ ডিসেম্বর ২০০৯, টরন্টো।)

কানাডায় খুনি নূর চৌধুরী, পর্ব-৫

https://www.facebook.com/cbn24.ca/
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
CBN-Leaderate