কখন বাড়ি কেনা নিরাপদ?

9046
AdvertisementLeaderboard

সামি খান,  টরন্টো

সাব্বির ভাই কয়েক বছর আগে এক কন্ডোমিনিয়াম কিনেছিলেন ড্যানফোর্থের দিকে। খুব ইচ্ছে ছিল বাড়ি কেনার। যথেষ্ট ডাউনপেমেন্ট না থাকা এবং দাম বেশি থাকার কারণে কিনতে পারেননি। তবে তিনি অপেক্ষা করতে চাননি। চাচ্ছিলেন যেভাবেই হোক বাড়ির মার্কেটে ঢোকা। হোক সেটা কন্ডোমিনিয়াম কিনে। CONDO কেনার সিদ্ধান্তটা একদমই খারাপ ছিলোনা। সেটা তিনি টের পেয়েছেন যখন দেখলেন গত কয়েক বছরে কন্ডোমিনিয়ামের দাম একটু বেড়েছে। এই সুযোগে কন্ডোমিনিয়াম বিক্রি করে বাড়ি কেনার যথেষ্ট ডাউনপেমেন্ট জোগাড় হয়ে গিয়েছিল। গত বছর নতুন বাড়ি কিনেও ফেলেছেন।

আরও পড়ুন:
বাড়ি কিনবেন নাকি ভাড়া থাকবেন?
টরন্টোতে বাড়ি কেনা কি সম্ভব?

কন্ডোমিনিয়াম কেনার পর সাব্বির ভাই ওনার কলিগ তাহের ভাইকে প্রায়ই বলতেন যেন উনিও বাড়ি কিনে ফেলেন। তাহের ভাই অনেকদিন ধরেই যথেষ্ট হাতে টাকা নিয়ে বসে আছেন। টাকা হাতে নিয়ে এইভাবে ৪ বছর ধরে অপেক্ষাই করছেন এবং যখনই বাড়ি কেনার প্রসঙ্গ আসে মনে মনে ভাবেন যে পরের বছর কিনবেন। এভাবে করে কখনোই কেনা হয়নি। কোনো ব্যাপারে তিনি যতক্ষণনা কনভিন্সড হন ততক্ষণ কোনো সিদ্ধান্তে আসেননা। এক্ষেত্রেও তাহের ভাই এই প্রফেশনে আছেন এরকম অনেকের সাথেই আলাপ করলেন। সব তথ্য জানার পরও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এসব দেখে পরিচিত একজনতো বলেই বসলো, ‘ভাই কিছু মনে করবেন না আপনাকে দিয়ে কখনোই বাড়ি কেনা হবেনা’।  কথাটা শুনে খুব রাগ লেগেছিল। কিন্তু এইটা এখন সত্যি হতে যাচ্ছে। আরেকজন উনাকে বললো, ‘সব তথ্য তো জানলেন এখন কীসের জন্য অপেক্ষা করছেন আর?’ তাহের ভাইয়ের কাছে এই প্রশ্নের সত্যিই কোনো উত্তর ছিলোনা। উনি আসলে নিজেও জানতেননা কেন অপেক্ষা করছেন।

এবার মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন যে বাড়ি কিনবেন। এতদিন হাতে টাকা নিয়ে বসে ছিলেন কিন্তু বাড়ির দাম তো আর বসে নাই। এর মধ্যে একটা বাড়ি পছন্দ করলেন এবং অফারও দিয়ে দিলেন। কিন্তু ওনার পছন্দের বাড়ির দাম এবং ওনার ইনকামের হিসাবে মর্টগেজ হতে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু ঠিক ৬ মাস আগে এই ধরণের বাড়ির দাম আরেকটু কম ছিল। সিদ্ধান্তটা ৬ মাস আগে নিলে তখন খুব সহজেই বাড়িটা কেনা যেত যেহেতু দাম আরেকটু কম ছিল।

অথচ তিনি বাড়ি কেনা নিয়ে এই প্রফেশনে যুক্ত অনেকের সাথে আলাপ করেছেন একসময়ে। অনেকেই তাকে বলেছিল বাড়ির মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারটা কিন্তু তখন সিরিয়াসলি নেননি। সিদ্ধান্ত নিতে বেশি দেরি করার কারণে এখন পছন্দের বাড়ি কেনা এবং মর্টগেজ সংক্রান্ত ব্যাপারে ভালোই বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অপেক্ষা করার মূল্য যে এত হবে সেটা উনি বুঝতে পারেনি।

ফলস্বরূপ তাকে বেশি মূল্য দিয়ে বাড়ি কেনার চিন্তা করতে হচ্ছে। ভাগ্যে থাকলে হয়তো কিনেও ফেলতে পারেন। আবার নাও পারেন। পুরো ব্যাপারটাই ঝুলে গেছে।

এক্ষেত্রে করণীয় কি?

যখনি বাড়ি কেনার কথা ভাববেন তখনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলুন যে বাড়ি কেনার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কী কী ধাপ পেরোতে হয় এবং আপনি কতটুকু প্রস্তুত। সে হিসেবে সেদিন থেকেই কাজ শুরু করে দিন। এসব ব্যাপারে পরামর্শের জন্য আপনি রিয়েল এস্টেটের সাথে জড়িতদের সাথে কথা বলবেন যারা প্রতিদিন আপনার মত ক্লায়েন্টদের সাথেই এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কাজ করে।

সবচেয়ে জরুরি ব্যাপার হলো আপনার পছন্দের এবং বাজেটের মধ্যে যে বাড়িগুলো বর্তমানে মার্কেটে আছে ভবিষ্যতে হয়তো সেই বাড়ির একই দাম থাকবেনা। হয়তো ৬ মাস অপেক্ষা করে বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন এবং ৬ মাস অপেক্ষা করলেনও। তখন বাড়ি কিনতে গিয়ে যদি দেখেন যে দাম বেড়ে গিয়ে সাধ্যের বাইরে চলে গেছে তখন আপনার বাড়ি কেনায় একটা বাধা চলে আসবে। হয়তো পছন্দের বাড়ি কেনা হবেনা অথবা আর বাড়িই কেনা হবেনা।

দিনশেষে আপনার সিদ্ধান্ত আপনার নিজের। আপনিই সিদ্ধান্তই নিবেন আপনি এখনই বাড়ির মার্কেটে ঢুকবেন নাকি আরো অপেক্ষা করবেন?

বাড়ি কেনা-বেচা সংক্রান্ত যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে 647-882-8529. কোন প্রশ্ন থাকলে তা সরাসরি ইমেইলে লিখেও জানাতে পারেন এই ঠিকানায় khansami@gmail.com.

আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা রইলো।

https://www.facebook.com/cbn24.ca/
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email