কানাডায় নতুন ইমিগ্রান্টদের ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ভাবনা

3025
কানাডিয়ান ১০০ ডলারের নোট, ছবিঃ সংগৃহীত
AdvertisementLeaderboard

মোহাম্মদ সাকিবুর রহমান খান  

।। উনিপেগ, কানাডা থেকে ।। 

কানাডায় বাইরে ঘুরতে-ফিরতে পোলাপানের মনোরঞ্জন করাতে, কেনাকাটা করতে, বাসা ভাড়া দিতে, কোন কিছুতেই শান্তি পাইনা। কারণ যখনই কোন কিছুর বিল দেই তখনই কলিজার মধ্যে কেমন যেন ধক ধক করে উঠে। ডলার খরচ করার সাথে সাথে বাংলাদেশি টাকার এক্সচেঞ্জ রেট ৬০ টাকা দিয়ে গুন দিলে মনটা অশান্তিতে ভরে যায়।

আমি নাটকের মোশাররফ করিমের মতন ‘চা খোর’ না হলেও কাজে থাকলে কিছুক্ষণ পর চা খেতে ভালো লাগে। যেখানে কাজ করি সেখানে কফি মেকারের মাগনা কফি থাকলেও তা খেতে মন চায় না। দীর্ঘদিনের অভ্যাস দোকানের চা খাবার। প্রতিদিন ৩/৪ গ্লাস না খেলে ভালো লাগে না।

এই দেশের বিখ্যাত কফির দোকান টিম হর্টনস ঢাকার রিক্সার মতন। রাস্তায় বের হলেই একটা দেখা যায়। ২০১৫ সালেও ঢাকার ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের মেরীস্টোপসে যখন কাজ করতাম তখন অফিসের সামনের টং দোকান থেকে ৭ টাকা দিয়ে এক কাপ চা খেতাম, আর এখন টিম হর্টনসে ছোট এক কাপ অখাদ্য কফি খেতে খরচ যায় ১.৫১ ডলার যা বাংলাদেশের ৯০ টাকার চেয়েও বেশি। যখনই এক কাপ চা-কফি খেতে বাংলাদেশের চেয়ে ৮৩ টাকা বেশি খরচ হয়ে যায় তখন কষ্ট হবারই কথা।

লেখকের পাঠানো ছবিতে তার দুই সন্তান
লেখকের পাঠানো ছবিতে তার দুই সন্তান

ঢাকার শাহবাগের শিশুপার্ক আমার আর আমার ছেলেদের খুব প্রিয় জায়গা ছিল। প্রতি ২/১ মাস পর পর আমরা সেখানে যেতাম। আমরা কানাডায় আসার সময়ও প্রতিটা রাইড ৬ টাকা ছিল। অর্থাৎ এই দেশের হিসেবে মাত্র ১০ সেন্ট। গড়ে জনপ্রতি দেড়-দুইশ টাকা খরচ করে স্টার কাবাবে দারুণ সব খাবার খাওয়া যেত। সেই হিসাবে ৩ ডলারে স্টার কাবাবের মানের খাবার (!) এই দেশে কল্পনা করা যায় না।

আমার বড় ছেলে অর্নব টাকা-পয়সার গুণ ভাগ বুঝতে পারে। আমি যখন কোন কিছু কিনতে গিয়ে মনে মনে গুণ-ভাগ করতে থাকি তখন সে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে ‘বাবা তুমি বেতন তো ডলারে পাও।’

(বেতনের কাহিনী কিংবা দীর্ঘদিন এই দেশে বসবাস করি বাংলাদেশিদের টাকার হিসেবের কাহিনী অন্য আর এক দিন বলবো।)

লেখকের ইমেইলঃ sakibmsb@yahoo.com
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email