কানাডায় বাংলাদেশী নতুন অভিবাসীদের কর্মসংস্থান সংকট ও তার সমাধান

1900
গোলাম মোস্তফা
AdvertisementLeaderboard

গোলাম মোস্তফা

===================
২০১৩ সালে ‘বায়েস’ (বেঙ্গলি ইনফরমেশন অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস) পক্ষ থেকে টরন্টোতে বসবাসরত একশ’ জন নতুন অভিবাসী ও ২০ জন পেশাগতভাবে সফল বাংলাদেশী কানাডিয়ানের ওপর স্নো-বল পদ্ধতির মাধ্যমে ছোট জরিপ পরিচালনা করেছিলাম।

উদ্দেশ্য ছিল নতুন বাংলাদেশী অভিবাসীদের কর্মসংস্থানের অবস্থা সম্পর্কে জানা ও বোঝা। জরিপ শেষে জানা গেল, ১০০ জনের মধ্যে ৫৫ জন বেকার অথবা স্কুল কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। অথচ এদের মধ্যে প্রায় ৮০ জনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী ছিল এবং তাদের বিভিন্ন পেশায় দক্ষতা ছিল। তাদের কাছে একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল; যেমন: আপনার প্রত্যাশিত পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে মূল প্রতিবন্ধকতা কোনগুলো।

বেশীরভাগ উত্তরদাতা বলেছিল যে, তাদের যে ডিগ্রি ও কর্মদক্ষতা আছে তা কানাডিয়ান এমপ্লয়ারদের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যারা পড়ালেখা করছিল তাদেরকে একটি সম্পূরক প্রশ্ন করা হয়েছিল। যেমনঃ আপনি কেন আবার পড়ালেখা করছেন? উত্তরে বেশীরভাগ জানিয়েছিল- কানাডা সরকার তাদের ক্রেডেন্সিয়ালের মূল্যায়ন করলেও বেসরকারী এমপ্লয়ারগন তা করেনা। সেজন্য পড়ালেখার দিকে না ঝুঁকে উপায় কী?

অনেকে ভাষাগত দুর্বলতার কথাও বলেছিলেন। Canadian Experience এর অভাবের কথাও এসেছিল। নেটওয়ার্কিং এর অভাবের কথা বলেছিলেন অনেকে।

কিন্তু যারা পেশাগতভাবে সফল তাদের কাছ থেকে শোনা গেল একটু ভিন্ন ধরনের কথা। তাদের বেশীর ভাগের মত, সফল হতে হলে ভাষার দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্ত:ব্যক্তিক যোগাযোগ দক্ষতা (Interpersonal Communication skills) বাড়াতে হবে। শুধুমাত্র ইংরেজি বলতে পারাটাও একমাত্র সমাধান নয়। বরং কোন জায়গায় কোন কথাটা বলতে হবে, কী রকম Tone ব্যবহার করতে হবে তাও খুব জরুরী বিষয়।

কেউ কেউ ব্যাখা করে বলেছিলেন, কারণ মানুষের মুখের ভাষার চেয়ে শারীরিক ভাষা (Body Language) বেশী গুরুত্ব বহন করে। ওনারা আরো বলেছিলেন, এখানকার চাকুরীদাতারা শুধুমাত্র দরখাস্ত (কভার লেটার ও রেজুমে) পড়ে দরখাস্তকারী সম্পর্কে আন্দাজ করে ফেলে প্রার্থীটি কেমন টিম মেম্বার হবে। দরখাস্তটাও কানাডিয়ান Style এ হওয়া দরকার।

তাছাড়া আরো যে সমস্ত বাধার কথা ওনারা বলেছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল- অনেক গবেষণা করে ক্যারিয়ার প্লান করা; হুটহাট করে সিদ্ধান্ত না নেয়া; শুধু মাত্র OSAP পাওয়ার আশায় চট করে কোন স্কুল কলেজে ভর্তি হয়ে না যাওয়া। আর প্রত্যাশিত পেশাগত ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন এরকম কাউকে মেন্টর/পরামর্শদাতা বানানো। মেন্টরের পরামর্শ মত কর্মপরিকল্পনা করে এগোনো। এতে হয়ত একটু সময় বেশী লাগে; কিন্তু সফলতা অনিবার্য।

এ কৌশল অবলম্বন করে আমার জানামতে অনেক বাংলাদেশী অভিবাসী সফলতার মুথ দেখেছেন। BIES এর পক্ষ থেকে আমরা নতুন অভিবাসীদের এধরনের পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করি; যেন তারা এ কৌশলগুলো অবলম্বন করে সফল হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে যে Same Formula বা কৌশল কাজ করবে সে রকমও না। কেননা প্রত্যকটি মানুষ আলাদা; প্রত্যেকের আশা, আকাঙ্ক্ষা, যোগ্যতা ও সিচুয়েশন আলাদা।

ফলে প্রত্যেকের সমস্যা আলাদা আলাদাভাবে সমাধান করাটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। দিন শেষে প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের সমস্যা নিজে সমাধান করে থাকে; অন্য একজন শুধু একটু সহযোগিতা করেন মাত্র।

Golam Mostafa
Chairperson, Bengali Information and Employment Services, Toronto, Canada
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email