কানাডার অভিবাসনের নতুন নিয়মে অনেকেই হতাশ

5387
AdvertisementLeaderboard




ওলেনা স্টেটসকেভিস। ২০১০ সালে ইউক্রেন থেকে অভিবাসী হয়ে কানাডা আসেন। এরপর বাবা-মা’কেও কানাডা নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইমিগ্রেশনের নতুন নিয়মানুযায়ী পরিবারের সদস্যদের কানাডায় নিয়ে আসতে এখন পুরোটাই নির্ভর করতে হবে ভাগ্যের উপর। এ অবস্থায় বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন অটোয়ায় বসবাসরত এই নারী। তার মতো একই হতাশায় কানাডার অনেক অভিবাসী।

গত বৃহস্পতিবার কানাডার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজের সাংবাদিক রবিন মিলারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ বিষয়টি।

স্টেটসকেভিস বলেন, ‘স্পন্সর করার যোগ্যতা অর্জনের পর এ বছর আমি আবেদনপত্র জমা দেওয়ার কথা ভেবেছিলাম।’ কিন্তু ইমিগ্রেশনের নতুন নিয়মানুযায়ী ওই নারীসহ অন্য যারা এ আবেদনপত্র জমা দিবে তাদেরকে একটি লটারি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

সকল আবেদনকারীর জন্য ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ করাতে নতুন এ নিয়ম করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজি এবং সিটিজেনশিপ দফতর।

চলতি বছরের জানুয়ারির ৩ তারিখ থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারির ২ তারিখ পর্যন্ত কানাডার নাগারিক এবং পার্মানেন্ট রেসিডেন্টরা তাদের পিতা-মাতা কিংবা দাদা-দাদীকে নিয়ে আসার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এরপর সকল আবেদনপত্র নিয়ে লটারি থেকে বাঁছাই করা হবে ১০ হাজার আবেদনপত্র। আর এদেরকেই কানাডাতে আসার জন্য সুযোগ দেওয়া হবে।

স্টেটসকেভিস বলেন, লটারি কখনোই নিরপেক্ষ হতে পারে না। এটা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে। তিনি আরও বলেন, এখানে কোনো নিরপেক্ষতা নেই, এটা নিরপেক্ষতার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। এটা একটা খেলা। আপনি ভাগ্যবান হতেও পারেন, আবার নাও হতে পারেন।

স্টেটসকেভিস ২০১০ সালে তার স্বামীর সঙ্গে ইউক্রেন থেকে কানাডাতে আসেন। যেহেতু তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান তাই তিনি চান তারা কানাডাতে এসে তার সঙ্গে থাকুক এবং সেটা যতো দ্রুত সম্ভব। তিনি বলেন, নতুন এ নিয়ম কানাডা সম্পর্কে তার ধারণা পাল্টে দিয়েছে এবং তার মনে হচ্ছে তিনি তার পিতা-মাতাকে ত্যাগ করেছেন।

স্টেটসকেভিস আরও জানান, ‘আমি যদি জানতাম যে প্রতিবছরই ইমিগ্রেশনের নিয়ম পাল্টাবে এবং আমাকে এ পরিস্থিতিতে ফেলবে তবে আমি কানাডার অভিবাসী হতাম না।’

আইনজীবীরাও একই হতাশা শুনছেন

অভিবাসন আইনজীবী তামারা মোশহের কুচজারও অটোয়াতে একই ধরণের হতাশার কথা শুনছেন বলে জানিয়েছেন সিবিসি নিউজ’কে।

তিনি বলেন, যারা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসার চিন্তা করছিলেন তারাই হতাশার মধ্যে পড়েছেন। এখন তাদের এমন এক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হবে যে, লটারি ঠিক করে দিবে তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসতে আবেদন করতে পারবেন কিনা।

screen-shot-2017-01-07-at-6-45-12-pm

          তামারা মোশহের কুচজার

তিনি বলেন, অনলাইনের নতুন আবেদনের নিয়মানুযায়ী লটারিতে এমন লোকের নামও উঠতে পারে যার হয়তো স্পন্সর করার অনুমোদনই নেই।

তিনি আরও বলেন, সবসময়ই এমন কিছু লোক আবেদন করবে যাদের আবেদনের যোগ্যতা নেই, কিন্তু যদি আগে থেকেই সকল নিয়ম মেনে আবেদন করতে হয় সেক্ষেত্রে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে প্রচুর আবেদন জমা পড়ার কারণেই ১০ হাজার জনকে এ সুবিধা দেওয়ার নতুন নিয়ম করা হয়েছে বলে মনে করেন তামারা।

লটারিতে এ বছর যারা নির্বাচিত হতে পারবেন না, তারা একই পদ্ধতিতে ২০১৮ সালে পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।

 

 

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email