কানাডার ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বর্ষবরণ উদযাপিত

3282
AdvertisementLeaderboard

ফারজানা নাজ শম্পা

।। হ্যালিফ্যাক্স, কানাডা থেকে ।।

আটলান্টিক সাগর তীরে নৈসর্গিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ কানাডার আটলান্টিক প্রদেশের নোভা স্কোসিয়ার রাজধানী শহর হ্যালিফ্যাক্সে সেদিন বইছিলো বাংলার বৈশাখের নব রুদ্র বাতাস। বাংলাদেশ থেকে বহুদূরে ভৌগোলিক সীমানার গন্ডি পেরিয়ে এই বৈশাখী বাতাসের ছোঁয়া এনে দিয়েছিলেন দেশের একঝাঁক প্রতিভাধর তরুণ প্রবাসী বাংলাদেশি ছাত্র।

অতি সম্প্রতি তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হ্যালিফ্যাক্সে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলা বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলেন হ্যালিফ্যাক্সের ‘ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটটি’র কয়েকজন উদ্যোমী বাংলাদেশী ছাত্র। আমার স্বামী মোহাম্মদ এহসান ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি শেষ পর্বে অধ্যয়নরত। এছাড়া তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষকতার সাথে সম্পৃক্ত আছেন। সেই সূত্র ধরেই অন্যান্য অনেকের মতো এই মনোরম সন্ধ্যায় আমিও ছিলাম এক আমন্ত্রিত অতিথি। এই অনুষ্ঠানটি ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ইউনিয়ন বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বিকেল পাঁচটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত স্থায়ী একটি চমৎকার মনোজ্ঞ সাংঙ্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দিয়েছিলেন ডালহৌসী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটির কয়েকজন তরুণ ছাত্র শিল্পী বন্ধু।

অনুষ্ঠানের প্রবেশ পথেই লক্ষ্যণীয় হলো কয়েকজন তরুণ ছাত্র প্রতিভা, রিয়াজ, জাহেদ, সজীব মেহেদী, রবিন গভীর মনোসংযোগের সাথে সুচারু ও নিপুণভাবে তাদের হাতে তৈরী লাল-নীল বর্ণের কাগজ দিয়ে আবহমান বাংলার লোকজ ঐতিহ্যে লালিত নানারকম নকশা যেমন ঢোল, দেশি তাল পাতার হাতপাখা, ঘুড়ি, মুখোশের অবয়ব, আলপনা নকশা দিয়ে মঞ্চ সজ্জার কাজে ব্যস্ত। 7সাধারণ কয়েকটি রঙিন কাগজ তাঁদের হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় পরিণত হয়েছিল অসাধারণ শিল্পকর্মে। তাঁদের যৌথ প্রয়াসে ও কয়েকটি বিনিদ্র রাত্রি যাপনের ফলে সৃষ্ট এই নকশাগুলি ছিল নিতান্তই আকর্ষণীয়। পরিবার পরিজন, অনেক প্রিয়মুখ পিছনে ফেলে শুধুমাত্র উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্য তারা প্রবাসে অবস্থান করছেন। তরুণ বাংলদেশী ছাত্রদের সাথে কিছুটা কথোপকথনের মাধ্যমে এই উপলব্ধি করলাম যে নানাবিধ প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির অনুভূতির পরেও তারা কানাডার এই প্রবাস জীবনে নিজের দেশকে ভুলে যাননি বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের বাংলাদেশের সংস্কৃতি যেন পরিচিতি পায় সেই লক্ষ্যে একত্রিত হয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন। হৃদয়ে সকল সময়ে অতি সযত্নে লালিত রেখেছেন বাংলাদেশ ও বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে। ভৌগোলিক দূরত্ব তাদের দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

10কানাডার প্রবাস জীবনের বহুমাত্রিক ভিন্নধর্মী বাস্তবতার কাঠিন্যকে পিছে ফেলে ২০১২ সালে গঠিত হয় ডালহৌসী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটি। জন্মলগ্ন থেকেই স্টুডেন্ট সোসাইটি ও এর সম্মানিত সদস্যরা প্রতিবছর বাংলাদেশের বিশেষ দিনগুলি (ঈদ, নববর্ষ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ইত্যাদি) উপলক্ষ করে স্বল্প অথবা বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করছেন নানা অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমন্ত্রিতদের প্রতি স্বাগত সম্ভাষণ জানাতে অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিমায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার শুভ সূচনা করেন সোসাইটির দু’জন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর ফাতমী (সিভিল প্রকৌশল বিভাগ) ও নাজমুল হাসান আরেফিন খান। তাঁরা আমন্ত্রিত সকলের সাথে প্রারম্ভিক পরিচিতি পর্বে বাংলদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটির নব নির্বাচিত সম্মানিত প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অর্থ নিয়ন্ত্রকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। নব নির্বাচিতরা হলেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাহেদুল আলম (সিভিল প্রকৌশল বিভাগ), ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহমিদা তানিয়া (কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ), নাজমুল ইসলাম রিয়াদ (কম্পিউটার সাইন্স বিভাগ), অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সাদমান মাহমিদ (কম্পিউটার সাইন্স বিভাগ)।

অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। তারপর বর্তমান প্রেসিডেন্ট সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রিত অনেক অতিথিদের মধ্যে সস্ত্রীকভাবে উপস্থিত ছিলেন সকলের অভিভাবক তুল্য ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অনুষদের অধ্যাপক শামসুদ চৌধুরী। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে সস্ত্রীকভাবে আরো উপস্থিত ছিলেন ডালহৌসী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও সিভিল প্রকৌশল বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসানুল হাবিব। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটির প্রাক্তন ও বর্তমান প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তাঁরা তাঁদের কিছু অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

অধ্যাপক শামসুদদোহা চৌধুরী সবাইকে এই সুন্দর আয়োজনের জন্য শুভেচ্ছা জানান ও অতীত স্মৃতিচারণের মাধ্যমে তার অভিমত ব্যক্ত করেন। বলেন, সকলের সম্মিলিত চেষ্টার ফলেই বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটি আজকের এই পূর্ণতা লাভ করেছে। তিনি সবাইকে সেই আদর্শে একযোগে কাজ করার ব্যাপারে বিশেষ অনুরোধ জানান। অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসানুল হাবিব তার বক্তব্যে বৈশাখের সৃজনশীলতা ও বাংলার ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও এর ইতিবাচক সুন্দর দিকগুলি তুলে ধরেন।

2এরপর পরিবেশিত হয় সেই সঙ্গীত যা বহুযুগ ধরে বাঙ্গালির বর্ষবরণের আহ্বানে জড়িয়ে আছে, যা আমাদের ভগ্ন পুরাতনকে পিছনে ফেলে নতুনকে গ্রহণ করার প্রেরণা যোগায়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী সেই সঙ্গীত ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশন করেন তরুণ ছাত্র মাহির ও তওহীদ। তাদের সুলোলিত কণ্ঠের ও সুরের মূর্ছনা ছিল চমৎকার এক আহ্বান যা সকলকে কপটতাহীনতাকে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক সোনালী পথের হাতছানি দিয়ে যেন ডাকছিলো। এই সঙ্গীতের পরিবেশনা খুব উপভোগ্য ছিল ও সকলে এতটাই তন্ময় হয়ে শুনছিলেন যে আমন্ত্রিত অনেকেই তাদের সাথে কণ্ঠ মিলানোর সুযোগ ছাড়েননি। তওহীদ ও মাহির পরবর্তিতে যৌথ ও এককভাবে কয়েকটি সঙ্গীত পরিবেশন করেন তাদের কণ্ঠ ও সুরের ছোঁয়া সত্যি যেন ক্ষণিকের জন্য আমন্ত্রিতদের হারিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো এক হারানো স্মৃতির মায়াজালে। এরপর সোসাইটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাহেদুল আলম মঞ্চে আহ্বান জানান শিশু শিল্পীদের। হ্যালিফ্যাক্সের অপর একটি বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট মেরিসের ছাত্রী সাবরিনা বুলির প্রাণবন্ত ফুটফুটে শিশু কন্যা রাইসা শাশ্বত বাঙালি নারীর লাল সোনালী ডুরে পাড়ের শাড়িতে সজ্জিত হয়ে খুব চমৎকারও বৈচিত্র্যধর্মী ভঙ্গিমায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতাটি ‘আবৃত্তি করে সবার মাঝে অনাবিল আনন্দ দেয়। অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসানুল হাবিব-এর উচ্ছল প্রাণবন্ত শিশু কন্যা নোরা চমৎকার সুসজ্জিত সাজপোশাকে সুন্দরভাবে পরিবেশন করে একটি রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘আয় তব সহচরী’। শিশু শিল্পীদের এই প্রচেষ্টা ও সারল্যময় অভিব্যক্তি আমন্ত্রিত সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছিলো সরল আনন্দের এক ভিন্ন আমেজ।

3প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর ফাতমী একটি সঙ্গীত পরিবেশন করার জন্য মঞ্চে আহ্বান করেন, সোসাইটির বর্তমান অর্থ নিয়ন্ত্রক সাদমান মাহমিদকে। সাদমান তার একটি বক্তব্যের মাধ্যমে সবার মনে ছড়িয়ে দেন একরাশ নির্ভেজাল হাঁসির ছোঁয়া। সবাইকে বলেন ছাত্রজীবনে নানা ব্যস্ততায় আমরা সবাই অনেকটা দিশেহারা, তাই আমি ধ্রুবতারার কাছে আমার জীবনের উত্তর খুঁজি। এই পর্যায়ে তিনি সুন্দর ভরাট কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা’ এই বাংলা সঙ্গীতটি।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘হঠাৎ দেখা’ কবিতাটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে যুগল আবৃত্তি করেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান ও তার সহধর্মিনী তাহমিনা। এরপর পালাক্রমে পরিবেশিত হয় কয়েকটি সঙ্গীত ছাত্র আসিফ চমৎকারভাবে তারা প্রিয় মানুষটির অদেখা অচেনা রূপটি তুলে ধরেন ‘সেই তুমি কেন এতো অচেনা হলে’ এই সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে। 6সেন্ট মেরিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শিল্পী ফ্যামি পরিবেশন করেন ‘ওরে নীল দরিয়া’ এবং ‘তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা’ এই সঙ্গীত দুটি। তার চমৎকার কণ্ঠশৈলী ও পরিবেশনা সবাইকে মুগ্ধ করে। এ সময় বাংলাদেশের কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য সম্বলিত একটি সাধারণ জ্ঞানের প্রতিযোগিতা করা হয় এবং এর সঞ্চালক ছিলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর ফাতমী। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ফাতমী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহম্মদ জাহেদুল আলম খুব সাবলীল ভঙ্গিমায়, উষ্ণ এবং আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানিয়ে নৈশ ভোজে অংশ গ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রিতদের অতিথিদের আহবান জানান।

4বাঙ্গালি কায়দায় আয়োজন করা হয় নৈশভোজের। খাদ্যের মেনুতেও ছিল ষোলো আনা দেশি ঘারানার ছোঁয়া, চটপটি, ভাত, ডাল, ভর্তা, ইলিশমাছ ও শুঁটকি ও শেষপাতে অসাধারণ ক্ষীর পায়েস।শুধুমাত্র ডালহৌসি নয় হ্যালিফ্যাক্স এর আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট মেরিস বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র এই আয়োজনের অন্তর্গত ছিলেন। আয়োজকরা ছিলেন লাবিব, জাহিদ, মেহেদী, বুলি, সাদমান, পলিন লায়লা, তাহমিনা দেওয়ান।

নৈশ ভোজের শেষে অনেক কথোপকথন, হাসি কলরবের এই মিলন মেলায় ঘড়ির কাঁটা কিন্তু থেমে থাকেনি। আমি হঠাৎ লক্ষ্য করলাম সেই কাঁটা রাত প্রায় সাড়ে দশ টা ছুঁই ছুঁই। তাই এবার এলো ঘরে ফিরবার পালা। আমার দুই শিশু সন্তান অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অথিতিদের ছোট শিশুদের সাথে হাসি খেলায় এতটাই আপ্লুত ছিল যে তাদের ঘরে ফেরার তাড়া ও পরবর্তী প্রাত্যাহিক রুটিনগুলি মনের গহীনে একবার নাড়া দেয়নি। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটির মূল আদর্শ ও ভবিষৎ সম্পর্কে আমার একটি প্রশ্নের উত্তরে সোসাইটির প্রেসিডেন্ট জাহেদুল আলম কয়েকটি দিক আলোকপাত করেন।

9তার বক্তব্যে স্টুডেন্ট সোসাইটির সকলের একযোগে কাজ করা, বাংলাদেশের বিশেষ দিবসে অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ঐতিহ্যকে উপস্থাপন, নতুন আগত ছাত্রদের প্রবাসের নতুন পরিবেশে যেকোন প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে যথাসম্ভব সহযোগিতা করার কথা, প্রতিমাসে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসে হ্যালিফ্যাক্সে  অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশি ছাত্রদের যোগাযোগের বন্ধন দৃঢ় করা ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করেন। একই বিষয় আমার সাথে কথোপকথনের আর একটি পর্যায়ে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ফাতমীর বাংলদেশি ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীতাকে বিশেষ প্রাধান্য দেন। ঘরে ফিরবার পথে একটি বিষয় মনের দরজায় একটু হানা দিচ্ছিলো যে বাংলা বর্ষবরণের, নতুনের আহ্বানে সকলের সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টার যে সাফল্য ‘ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটির’ এই প্রত্যয়ী ছাত্ররা সেদিন আমাদের উপহার দিয়েছেন তাদের ঐক্যের অনন্য দৃষ্টান্ত আমাদের সমাজের অনেক অংশে বর্তমানে বিরাজমান ক্ষয়িষ্ণু মানবিক মূল্যবোধহীনতার স্তরে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। বর্তমানে বাংলদেশে সহ ও বিশ্বের অনেক স্থানে বাংলা নববর্ষকে নিয়ে ব্যক্তিগত, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতাদর্শ গত অপ্রত্যাশিত জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা নিতান্তই দুঃখজনক।

5আবহমানকাল ধরে বৈশাখ ও বাংলা বর্ষবরণ এর সকল উৎসব নিজ বৈচিত্র্যে, স্বাতন্ত্র্যে সকল বাঙালির, বাংলা ভাষাভাষী সকল মানুষের। তাই এক্ষেত্রে বাক্তিগত হীন স্বার্থ ও জটিলতা ভুলে এক হয়ে কাজ করাটাই সমীচীন। অনুষ্ঠান সংক্ৰান্ত প্রাসঙ্গিক নানা তথ্য ও মতামত দিয়ে আমার চিন্তাকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করেছেন আমাদের প্রবাস জীবনের কঠিন যাত্রা পথে চলার অন্যতম সহযোদ্ধা ও সাথী ছোট ভাইয়ের সমতুল্য ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট সোসাইটির প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট আজহার ইসলাম সাকিব। তিনি বর্তমানে হালিফ্যাক্সের বিএম ও ব্যাংকে কর্মরত আছেন।

11এছাড়া আরো গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাহেদুল আলম, ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজমুল রিয়াদ, ফাহমিদা তানিয়া, সাদমান মাহমিদ, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর ফাতমী ও সেন্ট মেরিস এর ছাত্রী সাবরিনা বুলি। ‘ডালহৌসি বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটির’ সদস্যরা শুধুমাত্র তাদের বিশ্ববিদ্যালয় নয় বরং হ্যালিফ্যাক্সের অপর একটি বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট মেরিস-এর ছাত্রদেরও অন্তর্গত করে পারস্পরিক সম্প্রীতির একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও আমার প্রতি তাদের এই সহযোগিতার মনোভাবের জন্য তাদের সকলের প্রতি বিশেষ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। প্রবাসের মাটিতে ‘ডালহৌসী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ স্টুডেন্ট সোসাইটি’র সকল বিভেদ ভুলে কাজ করার এই সম্মিলিত বর্ণিল উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের আগামী দিনের পথ চলা শুভ সুন্দর হোক, আর আমরা শুধুমাত্র নববর্ষের দিনটিতে নয় বরং প্রতি দিন যেন নববর্ষের মঙ্গল আলোকে সৃষ্টিকর্তার কৃপায় অযাচিত হীন বিভেদ ভুলে বাংলার, বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে সাথী করে দেশে ও প্রবাসের মাটিতে আমাদের হাজার বছরের সু-সমৃদ্ধ বাংলার কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও যথাসম্ভব সঠিক শুদ্ধভাবে বাংলার চর্চাকে ধরে রাখতে পারি সে কামনায় আমার লেখার ইতি টানছি।

ফারজানা নাজ শম্পা 
ফ্রিল্যান্স লেখক 
হ্যালিফ্যাক্স, কানাডা।
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email