কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় শতাধিক বাংলাদেশি শিক্ষক!

12989
ইমাম উদ্দিন
AdvertisementLeaderboard

ইমাম উদ্দিন

।। টরন্টো, কানাডা থেকে ।।

শিরোনাম শুনে আপনি হয়তো অবাক হতে পারেন। এটা কি সত্য? আমি বলবো হ্যাঁ ১০০%। অভুতপূর্ব ভাল করছে কানাডায় বাংলাদেশিরা। শুধু আমার জানা মতে কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষকতা পেশায় আছেন ৮৬ জন। আমার জানার বাইরে আরও অনেকে আছেন। সবমিলিয়ে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় আছেন শতাধিক।

ড. আহমেদ শফিকুল হক আমার শিক্ষক। বর্তমানে ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেকজন অধ্যাপক ওয়ালিউল খান। তিনি প্যাথলজি এন্ড মলিকিউলার মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক। নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক মতিউর আর হাওলাদার ও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। 

ড. ফাহিম কাদির বায়েসের উপদেষ্টা। ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্রাজুয়েট স্টাডিজের এসোসিয়েট ডীন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুল আলম ও শামীম চৌধুরী মাহমুদ। সাবের সালাহউদ্দিন বায়োলজির অধ্যাপক। শফি ভুঁইয়া, তানজিম হোসেন, মনিরুল মির্জা, খোন্দকার এম নুরুল হাবিব। এঁরা ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক।

রায়ারসন ইউনিভার্সিটিতে আছেন রক্তিম মিত্র, আনোয়ার হোসেন, নুরুল হুদা।

আনিস হক, মো. মোস্তাফিজুর রহমান ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগ্যারিতে। সুমি সিদ্দীকী, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, অনুপম দাস, আনিছুল হক আছেন ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ায়। ম্যানিটোবা ইউনিভার্সিটিতে আছেন এমদাদ হক, একরাম হোসেন।

ইউনিভার্সিটি অব অটোয়াতে নাসির উদ্দিন আহমেদ, দেওয়ান তানভীর আহমেদ। মাহমুদা চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব নিউ ব্রান্সউইকের শিক্ষক।

এছাড়া আমাদের সবার পরিচিত ড. অমিত চাকমা ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট্রার্ণ ওন্টারিওতে। ড. মোজাম্মেল খান শেরিডান-এ। অনেকের নাম জানা থাকা সত্বেও উল্লেখ করতে পারিনি।

কেন এটা লিখলাম? অনেকেই কানাডায় এসে ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশ। প্রতিদিন অনেকেরই মুখোমুখি হই। হতাশার কথা বলেন। আমি উৎসাহ দিই। বলি আপনিই পারবেন।

এই নামগুলো সফলতারই পরিচয়ই বহন করে। এঁরা দ্বিতীয় প্রজন্মের নয়। প্রথম প্রজন্মের। বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ছিল একসময়। এখন আলোকিত করছে সারা বিশ্বকে। প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশকে।

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নয়, প্রতিটি পেশায় বাঙালিরা এগিয়ে যাচ্ছে। কানাডার সরকারি প্রশাসনে আছে এখন প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি। স্বাধীনতার মাসে একজন বাঙালি হিসেবে এরচেয়ে আনন্দের গর্বের কী হতে পারে।

শুধু কানাডায় নয়, সারা বিশ্বেই বাংলাদেশিরা ভাল করছে। আপনিও পারবেন। শুধু দরকার ইচ্ছা, নিরলস প্রচেষ্টা। সবাই যে যেখানে থাকুন না কেন, সফল হোন। এটাই কামনা করি। সবাইকে স্বাধীনতার অগ্রিম লাল গোলাপ শুভেচ্ছা। সবাই ভাল থাকবেন।

লেখকঃ নির্বাহী পরিচালক, বেঙ্গলি ইনফরমেশন অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস (বায়েস), টরন্টো, কানাডা
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email