কুইবেক আওয়ামী লীগের মাতৃভাষা দিবস পালন

AdvertisementLeaderboard

একুশের চেতনা আমাদের আত্মমর্যাদাশীল করেছে, দুর্জয় সাহস জুগিয়েছে। ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’- চিরকালের এ স্লোগান আজও স্বমহিমায় ভাস্বর। একুশ মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ, যাবতীয় গোঁড়ামি আর সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে শুভবোধের অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারে দৃপ্ত শপথে প্রতিবারের মত এবারও ভাষা আন্দোলনে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে কুইবেক আওয়ামী লীগ।

দিবসটি উপলক্ষে কুইবেক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী সুইট-এর পরিচালনায় ও দলের সভাপতি মুন্সী বশীর-এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে কুইবেক আওয়ামী লীগ।

অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে নেতৃবৃন্দ। এরপর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আলোচনা সভায় সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্তসহ সকল ভাষা শহীদ ও ভাষাসৈনিক; যাঁদের অসীম সাহস ও অদম্য প্রেরণায় ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। বাঙালি অর্জন করে মাতৃভাষার অধিকার। বক্তারা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী ভাষা শহীদ বরকত, রফিক, সালাম, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা শহীদদের।

মাতৃভাষার জন্য বাঙালির আত্মদানের এ অনন্য ঘটনা স্বীকৃত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্বে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর তাদের ৩০তম সম্মেলনে ২৮টি দেশের সমর্থনে একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে একযোগে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে, বাঙালির সঙ্গে সারা বিশ্বে দিনটি পালিত হয়েছে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে। এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্যসাধারণ অর্জন।

কুইবেক আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সী বশীর অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বের সব ভাষাভাষীর প্রেরণার উৎস। সব ভেদাভেদ ভুলে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যেতে হবে। মহান ভাষা আন্দোলন কেবলই আমাদের মাতৃভাষার দাবি আদায় করেনি বরং তা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটায় এবং স্বাধিকার অর্জনে বিপুলভাবে উদ্বুদ্ধ করে। এ আন্দোলনের পথ বেয়ে ১৯৭১ সালে অর্জিত হয় বাঙালি জাতির বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মাসুদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান ভুইয়া,  আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রতন মজুমদার, হাসান জাহিদ কমল, সাজেদা হোসেন, মঞ্জুরুল হাসান চৌধুরী, সেলিম চৌধুরী, শাহ মোহাম্মদ ফায়েক, আবু ইউনুস সুজন, আবুল কালাম, ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ মেহেদী রাসেল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, অমর একুশে আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক। একুশের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা এবং নিরক্ষরতা মুক্ত আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ বিশেষ অগ্রগতি অর্জন করেছে।

বক্তারা দাবি করেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির যে অভিযোগ তোলে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল সম্প্রতি কানাডার ফেডারেল কোর্ট-এর রায়ে সে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, কানাডার আদালত গ্রহণযোগ্য গ্রাউন্ডের ভিত্তিতে বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল বলে উল্লেখ করেছে। রায়ে বলা হয়েছে হরতাল আহ্বান সহ সহিংস ঘটনার মাধ্যমে বিএনপি বাংলাদেশে লাগামহীন সন্ত্রাস চালিয়েছে। এই হরতালে অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। বিএনপি এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসী সংগঠন বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email