গণহত্যার ইতিহাস নিয়ে একুশে বইমেলায় এসেছে ‘লাল সবুজের ছড়া’

607
AdvertisementLeaderboard

সুহেল ইবনে ইসহাক

একুশে গ্রন্থমেলায় এসেছে অঞ্চলভিত্তিক গণহত্যার প্রথম ছড়ার বই ‘লাল সবুজের ছড়া’। বাংলা ছড়া সাহিত্যে অঞ্চলভিত্তিক গণহত্যার প্রথম ছড়ার এই বই লিখেছেন ছড়াকার লুৎফুর রহমান।

সিলেট বিভাগের গণহত্যা নিয়ে রচিত ‘লাল সবুজের ছড়া’ বইতে ছড়ায় ছড়ায় গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরেছেন তিনি। বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০০। মোট ছড়া একশ’ বিয়াল্লিশ। বইটি প্রকাশ করেছেন সমছুল-করিমা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী আনোয়ারুল ইসলাম অভি। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। ভূমিকা লিখেছেন লুৎফর রহমান রিটন।

বইটির শেষাংশে সিলেট বিভাগের মুক্তিযুদ্ধের তৃণমূল স্মৃতি চিহ্ন প্রকাশ করা হয়েছে। বইটি মেলায় লিটলম্যাগ চত্বরে এবং ৫৪৮ নং স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া সিলেটে জসিম বুক হাউস এবং অনলাইনে রকমারি ডটকম থেকেও পাওয়া যাবে।

বইয়ের ভূমিকায় লুৎফর রহমান রিটন লিখেছেন- ‘মুক্তিযুদ্ধকালে সংগঠিত অঞ্চলভিত্তিক গণহত্যার ইতিহাস ছড়ায় ছড়ায় রচনার ক্ষেত্রে প্রথম প্রয়াস এই বই। আমাদের ছড়াসাহিত্যে নতুন এই উদ্যোগের প্রথম অভিযাত্রী হিসেবে লুৎফুরকে অভিনন্দিত করি অকুণ্ঠ চিত্তে।’

বইটি সম্পর্কে ছড়াকার লুৎফুর রহমান বলেন- ‘আমার জানামতে কোন বৃহৎ অঞ্চলের গণহত্যার ইতিহাস ছড়ায় ছড়ায় এটি প্রথম বই। আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, তবে আমি বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের দেখেছি। কিন্তু আমার পরবর্তী প্রজন্ম জীবিত মুক্তিযোদ্ধাও দেখবে না! অনেকে জানবে না তাদের পাশের বাড়ির বীর মুক্তিযোদ্ধার শহীদ হবার ঘটনা কিংবা জানবে না এলাকার কোন কুখ্যাত রাজাকারের সহযোগিতায় গণহত্যার নির্মম ইতিহাস রচনা হয়েছিল। নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাসগুলো সহজে ঠোঁটস্থ আর মুখস্থ রাখার জন্য ছড়ামাধ্যমকে ব্যবহার করেছি। মূল ঘটনা ঠিক রাখতে অনেক জায়গায় ছড়া দুর্বল হলেও স্পষ্টতায় ঘটনাকে প্রাধান্য দিতে চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস- বইটি আজকের প্রজন্মকে একদিন মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার ইতিহাসের সন্ধানে সাহায্য করবে।’

বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে একাত্তরের কিশোর মাহমুদ আলী এবং একাত্তরের কিশোরী দিলারা বেগমকে, স্বত্ব দেয়া হয়েছে বর্ণমালা’কে।

উল্লেখ্য, লুৎফুর কর্মসূত্রে দুবাই নিবাসী। দুবাই থেকে মাসিক মুকুল পত্রিকা সম্পাদনা করেন। বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারের নিদনপুরে।

এর আগে তার ৬টি ছড়াগ্রন্থ, একটি ভ্রমণ এবং একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ বেরিয়েছে। তিনি ‘লাল সবুজের ছড়া’, ‘বিয়ানীবাজারে গড়া’ বইয়ের জন্য ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী পদক-১৫’ লাভ করেছেন।

সিলেট অঞ্চলে পাকবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের নির্মমতায় প্রাণ হারান প্রায় ৫ হাজার ৫শ’ সাত জনমানুষ। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২ হাজার ৪৪৫ জন, সুনামগঞ্জ জেলায় ৭৪০ জন, মৌলভীবাজারে এক হাজার ৩৬১ জন এবং হবিগঞ্জে প্রাণ হারান ৯৫২ জন।

এই পরিসংখ্যানের বাইরেও অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তথ্যানুসারে এসব মানুষের বেশীরভাগকে হত্যা করা হয়েছে বধ্যভূমিতে। ফলে এই অঞ্চলে ঠিক কতজন স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গ করেছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনও বের হয় নি!

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email