গদির রাজনীতিতে পদদলিত আমরা

589
লেখক: নয়ন চক্রবর্ত্তী
AdvertisementLeaderboard

নয়ন চক্রবর্ত্তী

।। চট্টগ্রাম থেকে ।।

আসলেই শ্যামল ভক্তের গোড়া শক্ত নেই, ওনার গোড়া শক্ত থাকলে এসব হতো না। শ্যামল ভক্তকে চাইলে কানে ধরাতেও পারে, চাইলে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতেও পারে, চাইলে ঘুষের দোষ চাপিয়ে ওনাকে বেত্রাহত করতে পারে।

আচ্ছা ধরুণ আগামীকাল যদি শ্যামল স্যারকে রেইন ট্রি হোটেলের মদ সরবরাহের দায়ে আরেকটি মামলা ওনার নামে হয় খুব অবাক হবে কি এই বাংলাদেশ? আমার মনে হয় মোটেও বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ এদেশে পেশী শক্তি আর বেয়াদবের কদর বেশি। এদেশে হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাওয়ার পরও নিশ্চুপ থাকে সরকার, আর আইন।

কেন শিক্ষক শ্যামল ভক্ত আজ কারাগার?

সেটা সবাই জানে, নারায়ণগঞ্জ ত্রাসের শহর। নারায়ণগঞ্জ মগের মুল্লুক। যা খুশি নারায়ণগঞ্জে করা যায় যদি সে ওসমান পরিবারের সাথে কোন না কোনভাবে সম্পৃক্ত থাকে। নারায়ণগঞ্জে কোন আইন নেই, নারায়ণগঞ্জ লাশের রাজনীতিতে বিশ্বাসী, নারায়ণগঞ্জ কলংকিত বারবার। যে দেশে জ্ঞানীর কদর নেই সেদেশে জ্ঞানী জন্মায় না, জন্মালেও বেশিদিন বাঁচতে দেয় না।

এই দেশে হলমার্ক কেলেঙ্কারি, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেও আইনের সরকারের তৎপরতা দেখা যায় না। নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গানম্যান, দেহরক্ষী সহ সরকারী উচ্চ প্রতিষ্ঠানে মহড়া দিলেও সে বিষয়ে নিশ্চুপ সরকার! শ্যামল স্যারের বড় দোষ আঙ্গুল তুলেছে অপরাধীর দিকে!আঙ্গুল তুলেছে বিশেষ ব্যক্তির দিকে।

এই দেশে কি হচ্ছে তার কিঞ্চিত পরিমাণ গণমাধ্যমে আসছে, তা দেখেই বুঝা যায় এদেশে কি হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা লোপাট, বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, হল মার্ক, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি এসব সয়ে গেছে। কিন্তু সরকার এসবে বিচলিত নয়, শ্যামল ভক্ত এমন বড় আসামী যে তাকে হাতকড়া পরিয়ে, টেনে হিঁচড়ে আদালত এলাকায় পুলিশ প্রহরা বাড়িয়ে দিয়ে নিয়ে যেতে হয়!

এদেশে হেফাজত কোরআন পোড়ানোর পর হয় আস্তিক, আর জাতীয় সঙ্গীত হয় নাস্তিকের। সারাদেশে শহীদ মিনার, পুরো বাংলাদেশে নৈরাজ্যবাদ ছড়িয়ে হেফাজত নেতারা গদির হিসাবে ব্যস্ত হয়ে সরকারের প্রিয়, আস্থাভাজন দল হয়েছে।

দেশের মধ্যে কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস কার্যক্রমকে মাস্টার্স স্বীকৃতি দিয়ে কি বুঝালো তা বাংলাদেশ জানে।

তারপরও সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়নি। আজ বাংলাদেশে যা হয়েছে তা আজীবন মনে রাখবে স্বাধীনতার পক্ষের প্রগতিশীল মানুষ। নৌকায় ভরসা রাখুন সকল ভাস্কর্য অপসারণ করা হবে, নৌকায় ভরসা রাখুন স্বাধীনতা বিরোধীদের দলে স্থান দেওয়া হবে, নৌকায় ভরসা রাখুন সকল প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার আশেপাশেই খন্দকার মোশতাকের প্রেতাত্মা। আপনাকে ওরা যা বুঝাচ্ছে তা কিন্তু সাধারণ মানুষের কথা নয়, এগুলো ওদের কার্যসিদ্ধির জন্য।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার হয়তো মনে আছে, আপনার বাবার লাশটাকে ওরা নিয়ম অনুযায়ী দাফন করতে দেয়নি, আপনাকে এই দেশে আসতে দেয়নি অনেক বছর। আপনার বাবার নামটি মুছে ফেলেছে সকল স্থাপনা ও দলিল থেকে। কিন্তু জাতি এসব মনে রেখেছে, আপনাকে আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে ভেবে বারবার এই দেশের মানুষ আপনার পাশে দাঁড়িয়েছে।

নাসিরনগরের ঘটনার মূল হোতা জামিন পায় আপনার নৌকার ওপর ভরসায়, আর শ্যামল কান্তি ভক্ত আপনার নৌকার মাধ্যমে জেলে যায়। সব ঘটনা আপনি জানেন। আজ এই ভাস্কর্য সরানোর জন্য আপনার বক্তব্য শুনে বাংলাদেশ আশাহত। সেদিন আরো বুঝেছি এই প্রিয় স্বদেশ আমার না। এই দেশে আমি স্বাধীন না। রক্তের হোলি খেলা আসছে সামনে।

এই বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়, আপনাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যে দেশে ধর্ষণের বিচার হবে না জেনে, পিতা কন্যা আত্মহত্যা করে, সেই দেশে যে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে তা সারা বিশ্ব জানছে।

এই ছোট্ট মেয়েটারও কি ওড়না ঠিক ছিল না? ঐ মেয়ে যদি প্রভাবশালী কারো হতো?

ভাস্কর্য দেখে যে তেঁতুল মোল্লাদের চুলকায় তা ঢের বুঝেছে জনগন। আমার মনে হয় আর কয়দিন পর রাজু ভাস্কর্য ও অপরাজেয় বাংলা নিশ্চিহ্ন হব। হয়তো শুনবো রাতের অন্ধকারে ভাস্কর্যে কেউ ভেঙ্গেছে, না হয় বলবে এই সব ভাস্কর্য ধর্মবিরোধী, এসব হঠাও।

গদির রাজনীতি আর্দশচ্যুত করে। গদির জন্য পরিবার নিশ্চিহ্ন করা কোন কঠিন কিছু না, সেখানে দেশকে অরাজকতায় ঠেলে দেওয়াও অবিশ্বাস্য নয়।

নয়ন চক্রবর্ত্তী
এটিএন নিউজ, চট্টগ্রাম।
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email