চরিত্রহীন ঈর্ষান্বিত পথিক আমি!

695
লেখক: নয়ন চক্রবর্ত্তী
AdvertisementLeaderboard

নয়ন চক্রবর্ত্তী

।। চট্টগ্রাম থেকে ।।

আমি অন্য ধরনের। আমি সবার মতো দুহাত ধরে বলতে পারিনা ভালোবাসি। আমি কারো মতো বাঁকা চোখে তাকিয়ে সন্দেহ করতে পারিনা। সন্দেহের বিষবৃক্ষ আমার অভিধানে নেই। যা বলি সরাসরি, যাকে বলে ঠোঁটকাটা। এজন্য জীবনে অনেক বড় সুযোগ হাতছাড়া করে সবার মুখে শুনি, জীবনে আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। আমার মুরোদ নেই, আমার ঐসব বন্ধুদের মতো গাড়ি কিনার।লাগবে না, জীবনে প্রত্যেকটি পরতে পরতে জীবনকথা জেনেছি নিজের।

বুকে হাত দিয়ে জানতে চেয়েছি নিজেকে। ‘খুব কষ্ট হচ্ছে, পাল্টা উত্তর চলছে তো।’ ব্যস, আমি ও চলছি আমার মতো! আমি চিৎকার করে বা মেসেজ পাঠিয়ে বলতে পারিনা আই লাভ ইউ। আমার ভালোবাসা হলো মারকুটো!

কাছে না থাকলে পাগল হয়ে যায়। সঙ্গে পথচলার পর যদি কেউ জানতে চাই কেন আমি ঐ পথে হাঁটি তখন বলতে ইচ্ছে করে, কেন এতক্ষণ হাঁটলে? আমি কি বঙ্কিম চন্দ্র? নাকি শরৎ চন্দ্র যে আমায় বুঝ না?

আমার প্রিয় সবকিছুকে আমি প্রতিদিন ছুঁয়ে দেখি, প্রতিদিন ভাবি আমার মতো করে! আমার জীবনে কোন সম্পদ নেই, আমার প্রিয় ব্যাপার প্রিয় স্বপ্ন সবকিছুকেই আমি ছুঁয়ে দেখি, হাতড়ে বেড়াই অবিরত। এটা আমার বদঅভ্যাস। এসব হলো আমার সম্পদ।

শরৎ চন্দ্রের এই লাইন গুলো আমি সবসময় মুখে আওড়াই,

‘জড় নই, মৃত নই, নই অন্ধকারের খনিজ,

আমি তো জীবন্ত প্রাণ, আমি এক এক অঙ্কুরিত বীজ।’

আমি অঙ্কুরিত বীজ, সব সময় বীজ হয়ে ফলে ফুলে মহীরুহ হয়ে সবার মাঝে হারিয়ে যেতে চাই!

আমি জীবনানন্দের বনলতা সেনের প্রেমে পরছি সেই কলেজ জীবনের শেষ ভাগে। যেদিন চট্টগ্রামে সেই বনলতা সেনকে পেয়েছি, কিন্তু আমি জীবনানন্দের কাল্পনিক চরিত্রের বনলতাকে আনিনি। ওই বনলতার প্রেমতুলিতে আমার বনলতাকে পেয়েছি! সে হিসেবে জীবনানন্দ অপূর্ণ আমি পূর্ণ, ক্ষমো হে কবি!

যেদিন সিলেট যাচ্ছো সেদিন থেকেই মন খারাপ, যদি কান্না করে দিয় যাওয়ার আগে জড়িয়ে ধরে!কারণ আমি তো আমি, আমি মহামতি কেউ নয় যে তোমায় জড়িয়ে ধরতে চিন্তা করব! আগেই বলেছি আমি অঙ্কুরিত বীজ।

দ্বিতীয়ত কথা বললেই কান্না পাচ্ছিলো! এতদূরে যাচ্ছো কেমনে থাকব? যদিও বা একা তো মানুষ থাকে, সঙ্গে থাকে এটা হলো ভনিতা, অভিনয়, এক সাথে থাকার জোচ্চুরি।

বৃষ্টিজলে শীতের সকালে তাড়াতাড়ি অফিস গিয়ে ঘুমাচ্ছিলাম, কষ্ট ভুলতে। মরার কপাল সেই ৪ দিন অফিসের কাজ ছিল না বললেই চলে। আমার না পাওয়ার বেদনাগুলো কান্না হয়ে ঝরে পড়ে শুকনো পাতার মতো, বৃষ্টিজলের মতো, আর মার্বেলের মতো। শব্দ হবেই!

লোক দেখানোর মানসিকতা নেই, লোকে মুখে জপ করানোর অভিপ্রায়ও নেই। অনেকের মুখে একটা কথা শুনি, আমি নাকি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছি, আমি নাকি দিন দিন পশু হয়ে যাচ্ছি, মুখোশধারী হয়ে যাচ্ছি!

আসলে তা নই, আমি মুখোশটা খুলতে চাইছি, সমাজের সকলে মুখোশ পরিহিত, আমি নিজের মুখোশ খুলতে চাই, আমি বাঁচতে চাই! সেই পাখিটার মতো যে পাখিটা আমাদের বাসায় খাঁচায় করে এসেছিল আবার খাঁচা থেকে মুক্ত হওয়ার পর যেভাবে উড়ে গিয়েছিল ওভাবে।

ঠিক ওভাবে বাঁচতে চাই। যান্ত্রিকতা, কূটচাল ছাড়া। অনেক সময় প্রিয় মানুষটা বলে যে লোকে কি বলবে? তোমার এই কথার ঢং এ? উত্তর আমার সরাসরি আমি কথার খেলাতে অভ্যস্ত! অকথ্য কথনে আমি সবসময় নিরুৎসাহিত!

স্বপ্নের পালকে দুটো ফড়িং বসেছিল একটি চালাক, একটি চতুর! আমি চালাকটি তাই উড়ে গেছি। চতুর হলে মালিকের দেয়া ধান খেতে রয়ে যেতাম! উড়ো চিঠিতে একবার উত্তর দিয়েছি বলে আমি কিন্তু চরিত্রহীন নই! হুম আমি চরিত্রহীন সেখানে যেখানে কুলগর্ব থাকে! বারবার ডেকেছে তাই গিয়েছি! বারবার কথার খেলার ছলে আমি হারিয়েছি, পরে বুঝেছিলাম ওটা কথার খেলা নই, ওটা চরিত্রস্খলন!

ফিরে এসে হাজির হয়ে নিজের কথামালাকে সাজিয়েছি ঠিক চরিত্রহীনের মতো, কারণ আমি জানি আমি মানি চরিত্রহীনকে ঠিক করার দায়িত্ব নেয়া মানুষটির কাছে মিথ্যার আশ্রয় নেয়া মানে বেইমানি। যেটা আমি পারিনা।

আমি সেই পথিক যে পথিক পথ হারিয়েছিলাম বারবার। আমি সেই পথিক যে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বারবার শুনেছি, লক্ষ্যহীন মানুষের সাথে চলা মানে পশুর সাথে চলা।

আমি সেই পথিক, যে পথিক বারবার বিচ্ছেদের সুর পেয়েছি চলার পথে! রাজনীতিতেও সুবিধা করতে পারিনি! সবসময় শুনতাম স্পিরিট নেই পড়ালেখায়ও স্পিরিট নেই। খেলাধূলায়ও নেই। সবকিছুই শূন্য। কিন্তু সেই শূন্যটাই আমাকে তাড়া করে বেড়াত শূন্যতার প্রাচুর্যে।

সত্যি বলছি আমার চাওয়া পাওয়া, ভালোবাসা প্রেম বন্ধুত্ব, হাতে হাত রেখে পথচলা সবার মতো না।আমি অভিনয়টা জানি না। আমিই চরিত্রহীন আবার আমিই ঋষিকল্প। ভালো থাকার অভিনয়ে আমি বড্ড বেমানান।

নয়ন চক্রবর্ত্তী
এটিএন নিউজ, চট্টগ্রাম।
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email