চির নিদ্রায় শায়িত ফাহমি, শোকে স্তব্ধ কানাডার বাংলাদেশিরা

16651
AdvertisementLeaderboard
মা সাবিনা রহমান এবং বাবা আরিফ রহমানের সঙ্গে ফাহমি (মাঝে); ছবিঃ সংগৃহীত

সিবিএন২৪ ডেস্কঃ

টরন্টোর স্কারবোরোর নাগেট মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে পিকারিংয়ের মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হল ফাহমি আরিফ রহমানকে।

গত বৃহস্পতিবার কানাডার টরন্টোর ‘সুগার বিচ’ সংলগ্ন লেক অন্টারিও থেকে ২১ বছর বয়সী বাংলাদেশি এই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফাহমি দীর্ঘদিন বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। এজন্য তিনি চিকিৎসাধীনও ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিষণ্ণতার কারণেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

ফাহমি’র মা সাবিনা রহমান লীনা জানিয়েছেন, তার ছেলে যে জন্য এই পথ বেছে নিয়েছে, সে যেন সে পথে শান্তি পায়। সবাইকে তার ছেলের জন্য দোয়া করতে বলেন তিনি।

লেখক ও কলামিস্ট মোজাম্মেল খান জানান, ‘আরিফ এবং লীনা ভাবীর এ হৃদয়ভাঙ্গা শোকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমাদের জানা নেই। তবে তাদের এ মহাশোকের মাঝে সবচেয়ে আশাবাঞ্জক উপলব্ধি হোল বৃহত্তর টরন্টোর বাংলাদেশি সম্প্রদায় এক হৃদয় হয়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সর্ব শক্তিমান তাদের এ মহাশোক কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা প্রদান করুন এটাই আমাদের প্রার্থনা। আমাদের সবার প্রার্থনার মিলিত স্রোত আপনাদের হৃদয়ে শক্তি যোগাক এটাই আমাদের মিলিত কামনা।’

শোক জানাতে গিয়ে টরন্টোয় বসবাসরত সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল হালিম মিয়া বলেন, ‘আমি তার বাবা মাকে কী শান্তনা দিব জানি না। এটা আমাদের সকলের জন্য এমন একটা ঘটনা, খবর, যা আমি কোন ভাষায়ই বলতে পারবো না। আমার কিছু বলার নেই। শুধু বলি, সবাই ওর আত্মার শান্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আমি জানি না তার বাবা মা কিভাবে এই শোক সহ্য করবেন!’

আরও পড়ুনঃ কানাডায় বাংলাদেশি তরুণের মরদেহ উদ্ধার

কানাডার বাংলা টেলিভিশন এনআরবি টিভির সিইও শহিদুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘আমাদের প্রিয় ফাহমিকে শেষ বিদায় জানিয়ে এইমাত্র বাসায় ফিরলাম। ওর নিস্পাপ মুখটাই কেবল চোখে ভাসছে।আকাশের ঠিকানায় ভালো থাকুক ফাহমি। চিরকাল সে এরকমই থাকবে, বাড়বে না বয়স, সবার প্রিয় ফাহমি হয়েই থাকবে! মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুক।’

লেখক সুব্রত কুমার দাস বলেন, ‘শোকপ্রকাশের ভাষা পাচ্ছি না। ফাহমির মা-বাবা নিকটজনেরা শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি অর্জন করুক এই কামনা করি।’

টরন্টো প্রবাসী লেখিকা রোজানা নাসরীন জানান, ‘কতগুলো কষ্ট আছে যা কোন সান্ত্বনার কথা বলে অতিক্রম করা যায়না, এ কষ্ট ভেতরে ভেতরে প্রবাহিত হতে থাকে, ফাহমির মা বাবার সেই কষ্ট হচ্ছে যা কিছুতেই ভোলার নয়। ফাহমি তুমি যেখানে যেভাবে থাকো ভালো থেকো।’

কানাডার শপারর্স ড্রাগমার্টের জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ প্রকৌশলী লিটন কাজী বলেন, প্রায় ৪১ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলো ফাহমি। দীর্ঘদিন তাকে কানাডার বিভিন্ন স্থানে খোঁজা হয়। প্রত্যেকটি প্রদেশের বাঙালিরা এগিয়ে আসেন ফাহমিকে খুঁজতে। গণমাধ্যমগুলোতে নিখোঁজ সংবাদও প্রচার হয়। কিন্তু সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটির এই উদীয়মান তরুণ!

ফাহমি টরন্টোর সাবিনা রহমান এবং আরিফ রহমান দম্পতির এক মাত্র ছেলে।

 

[সিবিএন২৪-এ যোগাযোগের ঠিকানাঃ info@cbn24.ca; বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগঃ ৬৪৭-৫৭২-৫৬০০ (কানাডা), ০১৬১৬৩৮৮৮১২ (বাংলাদেশ)]

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email