টরন্টোয় পাল্টাপাল্টি শহীদ মিনার, জনমনে ক্ষোভ

AdvertisementLeaderboard

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কানাডার টরন্টোর ড্যানফোর্থের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় দুইটি শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।

বর্তমান অস্থায়ী শহীদ মিনারের মাত্র ১০০ গজ দূরে আরেকটি শহীদ মিনার তৈরী করা হয়েছে। একটি “সার্বজনীন একুশ উদযাপন” নামে ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন, আর অপরটি “সম্মিলিত একুশ উদযাপন” নামে মারহাবা সুপার মার্কেট সংলগ্ন থায়রা অ্যাভিনিউয়ে।

সাবেক ছাত্রনেতা ও লেখক-গবেষক ড. মঞ্জুরে খোদা এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ফেইসবুকের মাধ্যমে জানান,  “স্থানীয় মেয়র, জনপ্রতিনিধি ও বিদেশীরা শ্রদ্ধা জানাতে এসে যখন দেখবে ১০০ মিটারের ব্যবধানে দুইটা শহীদ মিনার, এবং প্রশ্ন করবে, এবার কেন ২টা মিনার, কি জবাব দেবেন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ..? কি বুঝাবেন তাদের “সম্মিলিত ও সার্বজনীন” শব্দের মানে..? প্রবল অনুভূতি প্রবন জাতির ভাবমূর্তিকে বিদেশে এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না! বাহ্যিক ঐক্যকেও অন্তত বিনষ্ট করবেন না!”

কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম্যাক আজাদ বলেন, “একুশ মানে মাথা নত না করা – অনেকের কাছে পরিষ্কার না। তাই, এক দলের মাতবরির কাছে মাথা নত না করে, মোড়ে মোড়ে আলাদা আলাদা শহীদ মিনার তৈরী করে শ্রদ্ধা নিবেদনের নামে চলছে নিজেদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা। শোক দিবস পালন করবো কি, এদের কার্যকলাপে শোক না হবার কোন কারণ নেই।”

টরন্টো প্রবাসী স্থপতি নওশের আলী তার ফেউসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “এই ধরণের নোংরামি ও কাদা ছুড়াছুড়ির কারনে আমরা কোন কোন সংগঠনের অনুষ্ঠান থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছি। এখন একুশ উদযাপন থেকেও কি নিজেদেরকে গুটিয়ে ফেলতে হবে? আর কত দেখাবেন আপনাদের দম্ভ? কি মনে করেন আপনারা নিজেদেরকে ‘সম্মিলিত একুশ উদযাপন’ বা ‘সার্বজনীন একুশ উদযাপন’ এর পিছনের কুশীলবরা? আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে যদি ভুগেন, তাহলে একটা ছোট্ট কাজ করে দেখান না ভাইজান? ফেডারেল বা প্রভিন্সিয়াল এম পি পদে প্রতিযোগিতা করুন না কেন? বা একজন কাউন্সিলর হওয়ার মত জোগ্যতা অর্জন করুন না? বা স্কুল বোর্ডের একজন ট্রাস্টি হয়ে দেখান না?” 

তিনি আরও জানান, “আপনাদের যদি টাকা পয়সা অনেক বেশি হয়ে থাকে, তাহলে টরন্টো সিটিকে পর্যাপ্ত ফান্ড দিয়ে একটা স্থায়ি শহীদ মিনার তৈরি করে দেন না কেন? তাহলে টরন্টোর বাঙ্গালিরা আপনাদের পাশে থাকবে। এবং আপনাদের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস ও চিরতরে মুছে যাবে। আর না হয় এসব নোংরামি বাদ দিয়ে সবাইকে এক জায়গায় এবং এক শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা প্রদানের সুযোগ করে দিবেন আশা করি।”

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email