টরন্টো শহরকে পাল্টে দিতে চান বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া কানাডিয়ান ডাক্তার!

8498
AdvertisementLeaderboard

Screen Shot 2017-01-11 at 3.03.11 PM

সিবিএন২৪ ডেস্কঃ

ডাক্তার ফাতিমা উদ্দিন। মাত্র ৯ বছর বয়সে শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশ থেকে কানাডায় পাড়ি জমান। বাংলাদেশের বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট, এবং রোগের প্রাদুর্ভাব তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। তাই কানাডায় এসে ডাক্তার হিসেবে তৈরি করেন নিজেকে। এখানে বসবাসরত বাঙালিদের পাশাপাশি শরণার্থী, আর দুর্গম অঞ্চলের মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে তিনি উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশের মুখ।

সম্প্রতি কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ ডা. ফাতিমাকে আমন্ত্রণ জানায় তাদের হু ইজ নেক্সট নামের একটি অনুষ্ঠানে। মূলত কানাডার সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে যারা অংশ নেন সেইসব ব্যক্তিদের সকলের সামনে তুলে ধরতেই এই অনুষ্ঠান।

নিজেকে অন্যের কল্যাণে নিয়োজিত করা ডাক্তারদের খুঁজে বের করার জন্য সিবিসি নিউজ প্রথমে দেশটির সেন্ট মিশেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. গ্রে ব্লোচের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ব্লোচ সিবিসিকে বলেন, সকল ডাক্তারই সমাজের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন, কিন্তু সবার চাইতে একটু ব্যতিক্রমী এবং উদ্যোগী কাজ করছেন ডা. ফাতিমা। তিনি নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কানাডার আদিবাসী, এবং শরণার্থীদের স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন। নিজ উদ্যোগেই জনমানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন তিনি

কানাডার অনিশনেব হেলথ টরন্টো এবং রিজেন্ট পার্ক কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে ফ্যামিলি ডাক্তার হিসেবে সেবা দেন তিনি।

টরন্টো শহরের জন্য ডা. ফাতিমা কী ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন, এ ব্যাপারে ডা. গ্রে ব্লোচ বলেন, ‘ফাতিমার মতো ডাক্তাররাই টরন্টোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া কানাডার উত্তর দিকের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এবামেটোঙ্গ ফার্স্ট নেশনের জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে তিনি মাদকাসক্তদের সুস্থ্যতার জন্যও কাজ করছেন।’ পেশাগত কাজের বাইরে গিয়ে টরন্টোর মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি, যা অন্যদের এই শহরের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।

কোন তাগিদ থেকে বঞ্চিত মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন এ প্রসঙ্গে ফাতিমা বলেন, ‘এই কাজে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আমি সমাজকে যতোটা দিতে পেরেছি তার চাইতে বেশি পেয়েছি। আমি যখন বাংলাদেশে ছিলাম তখন বন্যার স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত মানুষের হাহাকার দেখতে পেয়েছি। যখন কানাডায় আসলাম তখন দেখতে পেলাম শরণার্থীদের স্বাস্থ্য সেবা না পাওয়ার বিষয়টি। তখন থেকেই ইচ্ছে জাগে ডাক্তার হয়ে এসব স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করার। সে ইচ্ছা থেকেই এ কাজে নামা।’

তবে বিনয়ের সঙ্গে ডা. ফাতিমা বলেন, ‘আমার নেতৃত্বে শরণার্থীদের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া শুরু হলেও এটি আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলাফল, এবং এর অংশীদার আমরা সকলেই। আমার সঙ্গে অন্য অনেকেই কাজ করছেন। আমি অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছি, আমার সঙ্গে এই কাজে যুক্ত অন্য ডাক্তার, সেবিকাদের কথাও তুলে ধরতে। তারা সকলেই মানবতার কল্যাণে কাজ করছেন।’

শুধু টরন্টো নয়, কানাডাকে আরও সুন্দর করার জন্য সকলেরই নিজ উদ্যোগে সেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশি কানাডিয়ান ডাক্তার ফাতিমা উদ্দিন।

সিবিসি'র মেট্রো মর্নিংয়ে ডাক্তার ফাতিমা উদ্দিনের সাক্ষাৎকারটি শুনতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।
 
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email