‘ডুব’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞায় ফারুকীর প্রতিক্রিয়া

AdvertisementLeaderboard

‘ডুব’ চলচ্চিত্রের ওপর আরোপিত সেন্সর বোর্ডের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নিজের ফেইসবুকের ভেরিফাইড পেইজে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি লেখেনঃ

“এই কয়টা বছর আমরা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় হেডলাইন হয়েছি পজিটিভ কারনে। আর আজকে হেডলাইন হলাম একটা খারাপ কারনে। যে বা যারা সরকারকে বিভ্রান্ত করে এই কাজটা করিয়েছে তারা খুবই বাজে কাজ করলেন।

এখন আসেন আমরা সর্বশেষ ঘটনা ব্যাখ্যা করি। এবং আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করি। আমরা মার্চ মাসে নিয়ম মেনে যৌথ প্রযোজনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির কাছে স্ক্রিপ্ট জমা দেই। রিডার্স প্যানেল সেটা পড়ে মার্চের বারো তারিখ অনুমতি পত্র দেয়। তার ভিত্তিতে আমরা ছবির শুট করি।

এই মাসের বারো তারিখ নিয়ম অনুযায়ী যৌথ প্রযোজনার প্রিভিউ কমিটি ছবি দেখে। পনেরো তারিখ তারা অনাপত্তি পত্র দেয়। একদিন পর একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে একই কমিটি আমাদের চিঠি দিয়ে জানায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশক্রমে গতকাল ইস্যু করা অনাপত্তি পত্র স্থগিত করা হলো। এবং সেখানে কোনো কারণ পর্যন্ত ব্যাখ্যা করা হলো না। অর্থাৎ কার্যত আমাদের ছবিটি এখন আটকে গেলো। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই সাসপেনশন সাময়িক। এবং এটা বেআইনি কাজ হয়েছে। যে বা যাহারা সরকারের কাঁধে বন্দুক রেখে নিজের ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর চেষ্টা করেছেন, তারা কেবল সরকারকে বিব্রতই করছেন।

সরকারের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আমরা কোনো ধরনের কপি রাইট লঙ্ঘন বা কোনো বেআইনি কাজ করিনি। সুতরাং আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইবো এই আদেশের পেছনে কি কারন আছে। আমরা বিশ্বাস করি এই আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে। এবং আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশনকে শ্রদ্ধা করা হবে। নতুবা বাংলাদেশের আদালতের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।”

দ্বিতীয় এক লেখায় ফারুকী বলেন,

“ভাই ও বোনেরা, আমাদের ছবির উপর কোনো স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় নাই। ফলে ঘাবড়াইবেন না। আমরা সাময়িক ভাবে আটকা পড়েছি এনওসি সাসপেন্ড করার জন্য। আমরা বিশ্বাস করি এই সাসপেনশন অনির্দিষ্টকাল টেনে নিয়ে ছবিটা আটকে রাখা হবে না এবং অচিরেই এই অন্যায্য সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হবে। আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।”

তৃতীয়বার লেখেনঃ

“বোঝার চেষ্টা করতেছিলাম, ছবিটা তো সেন্সর বোর্ডে নিয়াও আটকাইতে পারতো। প্রিভিউ কমিটিতে দেখার পর আগের দিন এনওসি দিয়ে তড়িঘড়ি করে পরদিনই সাসপেন্ড করতে হইলো কেনো? আমার ধারণা এটার পেছনে চিকন বুদ্ধির কেউ আছে।

তার বা তাদের হিসাবটা সম্ভবত ছিলো এইরকম: সেন্সর বোর্ডে আটকাইলে অফিসিয়ালি ব্যান করতে হবে। খামাখা বদনামের মধ্যে ঢুকতে হবে। তার চেয়ে অনির্দিষ্ট কালের জন্য এনওসি সাসপেন্ড কইরা রাখলেই তো হয়। প্রথম কয়টা দিন পার করে দিতে পারলে মোটামুটি অনন্ত কাল টাইনা নেয়া যাবে। ব্যান না কইরাই ব্যান করা গেলো।

এছাড়া তো আমি আর কোনো কারণ দেখিনা। নাহলে যে ছবি আগের দিন পাস করলো, পরের দিন পৃথিবীতে কি এমন পরিবর্তন ঘটলো যে ইস্যু করা চিঠি বাতিল করতে হইলো? কারণ এই একদিনে ছবিতে তো আমি কোনো পরিবর্তন আনি নাই।”

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email