ধর্মকে নিয়ে অযথা গালিগালাজও প্রতিক্রিয়াশীলতা

677
AdvertisementLeaderboard

Kazi Anis

আমার ধর্ম ইসলাম। আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব হযরত মোহাম্মদ (সা.)। অথচ আমি জীবনে ওই সব বই বেশি পড়েছি, যা লেখা হয়েছে ধর্মের বিরুদ্ধে। এতে আমি উপকৃত হয়েছি বেশি। বিশ্বাস করেন, এসব বই পড়ার কারণে আমি ধর্মচ্যুত হইনি। বরং বলা যায়, পরিশুদ্ধ হয়েছি।

যখন দেখেছি, কোনো লেখক যুক্তি দিয়ে ধর্মের কোনো বিষয়কে সমালোচনা করেছেন, তখন আমি পাল্টা যুক্তি খুঁজেছি। চাপাতি খুঁজিনি।  আবার কখনও কখনও লেখকের যুক্তি মেনে নিয়েছি। ভেবে দেখেছি, কিছু ধর্মান্ধ মানুষ যেভাবে বানানো কাহিনী দিয়ে ধর্মের শান শওকত বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন, তাঁরা আসলে মিথ্যা বলেছিলেন। এ কাহিনী ধর্মের জন্যও মানহানিকর। ধর্মের বিরুদ্ধে লেখা বইগুলো পড়ে যুক্তির মধ্য দিয়ে আমি ধর্মকে কুসংস্কার আর বানানো কাহিনী থেকে আলাদা করতে শিখেছি। এতে সৃষ্টিকর্তার ওপর আমার বিশ্বাস আরও গাঢ় হয়েছে। ধর্মটাকে বুঝতে সহায়তা করেছে।

কিন্তু যেসব লেখক প্রগতিশীলতার চাদর গায়ে দিয়ে সৃষ্টিকর্তা আর তাঁর রাসূলকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে বেড়ায়, তাঁদের বই পড়ে আমি ওই গালিগালাজই শিখি। যদিও এসব লেখার কারণে তাঁদের মারতে হবে, কাটতে হবে-তার পক্ষে আমি নই। কিন্তু যুক্তি ছাড়া শুধুই গালিগালাজ করা, যুক্তিহীনভাবে কথা বলা কতটা প্রগতিশীলতা? আমি এমন লেখককে দেখেছি কী অশ্লীল কথাবার্তা বলে আমাদের মহানবী সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করেছেন। ওই লেখক জানেন না, এভাবে গালিগালাজ করে কেবল তিনি একটি ধর্মের প্রতি তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কিন্তু সমাজ গঠনের কথা বলে যে ‘বিজ্ঞানমনস্ক’ বা ‘প্রগতিশীলতা’র বিশেষণ তিনি ধারণ করেছেন তা কখনও বাস্তবায়িত হবে না।

ধর্মের বিরুদ্ধে যুক্তিপূর্ণ আলোচনা-সমালোচনা ধর্মের জন্যই প্রয়োজন। অন্তত কুসংস্কার আর অন্ধত্ব থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। এ কাজে যদি বাংলা একাডেমী কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করে ‘ফতোয়া’ দেন, তাহলে বই প্রকাশ করে ধর্মের ক্ষতিটা লেখক করেননি, করছে বাংলা একাডেমি।

আবার যারা ধর্মকে নিয়ে শুধু গালিগালাজ করেন, যুক্তিহীন বেফাঁস কথা বলেন, যারা এসব কিছুকে ’প্রগতিশীলতা’ বলে ঘোষণা দেন, তারা আর যা-ই হোক বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের দাবিদার হতে পারেন না। একজন মানুষ হিসেবে আমি কোনো ধর্মকে নিয়ে, ধর্মের প্রচারককে নিয়ে অযথা গালিগালাজ সমর্থন করতে পারি না। তবে এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা অন্য কিছু করে তা বন্ধ করার কোনো কারণ আমি দেখি না। আবার কেউ সমর্থন করলে তাকে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে-তাও আমি মানতে রাজি নই।

বই প্রকাশ হবে, আমরা পড়ব। ভাল লাগলে গ্রহণ করব, না লাগলে করব না। যাদের ভাল লাগবে, গ্রহণ করবে এটা তাদের ব্যাপার। এমন সমাজ গঠন করতে না পারলে এত এত সাহিত্য সম্ভার দিয়ে কোনো লাভ নেই।

সুতরাং, বাংলা একাডেমীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এ নিয়ে যদি কেউ আন্দোলন করে তাতে আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

কিন্তু সঙ্গে গালিগালাজ বন্ধ করে যুক্তির মধ্য দিয়ে যাতে সাহিত্য বই বেড়িয়ে আসে, তা নিয়েও আমাদের কিছু বলা উচিত…

আমাদের বোঝা দরকার, ধর্মকে নিয়ে অযথা গালিগালাজও প্রতিক্রিয়াশীলতা, যা সমাজের জন্যই ক্ষতিকর।

লেখকঃ
শিক্ষক, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email