“পুলিশ সাংবাদিকের গায়ে হাত তুলবে কেনো?”

AdvertisementLeaderboard

আশিকুর রহমান শোভন

।।ঢাকা থেকে।।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির হরতাল। সংবাদ সংগ্রহে সকাল থেকেই শাহবাগ। আন্দোলনাকারীরা একদিকে তাদের মত করে স্লোগান দিচ্ছিলো, নিজেদের মত করে গান গাচ্ছিলো, অন্যদিকে থানার সামনে পুলিশ ছিলো সতর্ক অবস্থানে।

পরিস্থিতি ততটা উত্তপ্ত ছিলো না, তাই সংবাদকর্মীদের ব্যস্ততাও ছিলো না তেমন। তাই Kazi EEhsan Bin DidarRashed NizamAsif Sumit সহ অন্যরা পাবলিক লাইব্রেরির সামনে নিজেদের মত করে কথা বলছিলাম। ঠিক তখনই উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

একদিকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশের টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ অন্যদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। এরকম পরিস্থিতিতে সবাই যার যার মত করে সুবিধাজনক অবস্থায় চলে যাই। ততোক্ষনে টিয়ার গ্যাসে পুরো এলাকা ছেয়ে গেছে পাশাপাশি বাতাসের তীব্রতা বেশী থাকায় গ্যাস আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিলো।

16252003_10206529664679796_8278827110831894090_oসংবাদকর্মীরা প্রায় সবাই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলাম। চোখে কিছু দেখছিলাম না। সবাই যার যার মত করে আগুন ধরিয়ে গ্যাস থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। জাদুঘরের সামনে আগুন ধরিয়ে সেখানে চোখটা বাঁচানোর চেষ্টা করছিলো অনেকেই, আমার সাথে একাত্তরের মিল্লাত ভাই আর এক পুলিশ কর্মকর্তাও বারবার আগুনের স্পর্শ পাওয়ার জন্য ওখানে গেলাম।

ঠিক এমন সময় আন্দোলনকারীদের একজনকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় ইশানের ক্যামেরাপার্সন আব্দুল আলিম ফুটেজ নিতে গেলে তখন ওখানে থাকা ২০-৩০ জন পুলিশ অতর্কিত হামলায় চালায়। সকাল থেকে আমরা আর পুলিশ পাশাপাশি অবস্থান করলাম, যে যার যার কাজ করে যাচ্ছিলো ঠিক এমন অবস্থায় পুলিশ সাংবাদিকের গায়ে হাত তুলবে কেনো? মাথাতেই ঢুকলো না।

শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে আলিমকে যখন পেটাচ্ছিলো তখন ইশান আমাদের ঠিক পাশে অন্যদের সাথে আগুনের মধ্যে চোখের জ্বালাপোড়া কমানোয় ব্যস্ত। আলিম ভাইয়ের চিৎকার শুনে ইশান এগিয়ে গেলে ইশানকেও পেটানো শুরু করে পুলিশ। ইশানের হাতে বুম ছিলো, ওদের মধ্য থেকে একজন বলতে থাকে ”হাতে মাইক আছে মুখে মার”।

Emran H SumonAditta SumanMofidul Alam Khan Topu সহ ইশানের অন্যান্য সহকর্মীরা ইতিমধ্যে থানার সামনে চলে এলে আমি দুইজনকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল চলে যাই। খুব দ্রুতই জরুরী বিভাগের ডাক্তাররা প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন করে। ইশানের চারটা এক্সরে করতে হয়েছে, সাথে ডান পাশের পুরো পা প্লাস্টার, অন্যদিকে আব্দুল আলিমের চোখের ওপরে দুটো শেলাই লেগেছে।

16265880_10210670436069653_2149392685815311801_nবিকেলে আমরা সবাই যখন ওসির রুমে তখন তদন্ত কর্মকর্তা ১০ জন করে সাত/আট ধাপে ৭০/৮০ জন পুলিশ কনস্টেবলদের লাইন ধরিয়ে আহত দুই সাংবাদিকের মুখোমুখি করছিলেন। এদের মধ্যে তারা দুজন ১৬ জনকে চিহ্নিত করেন। এর মধ্যে সামনে থাকা পুলিশ কর্মকতা তার মোবাইলে ছবি দেখে নিজেই তাৎক্ষনিক একজনকে চিহ্নিত করেন।

রমনা জোনের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদারের সাথে কথা হচ্ছিলো। উনি ঘটনার শুরুতেই বারবার দুঃখ প্রকাশ করছিলেন। পুরোটা সময় শান্ত থাকা পুলিশকে চোখের সামনে সাংবাদিকদের ওপর এরকম আক্রমণ করতে দেখে খুব অবাকই হয়েছি। এএসআই এরশাদ মন্ডলদের মত অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যরা বারবার পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে এভাবেই কলঙ্কিত করছে। পুরো ঘটনায় খুবই মর্মাহত এবং লজ্জিত।

ছবি সংগ্রহীত
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email