প্রবাসে জীবন সংগ্রাম (পর্বঃ বিশ)

626
AdvertisementLeaderboard

 Dr. Syeda Malihatun Nessa

-গতকালের পর-

।বিশ।

তোতনের সাথে বন্ধুত্ব করার সবচে ভালো দিকটা হচ্ছে ‘আমি এদেশের হাইস্কুল সম্পর্কে সব কিছু জানলাম’, মনে হলো আমি যেন এদেশের হাইস্কুল থেকে graduation করেছি’। আমি তোতনকে বললাম, “মামনি স্কুলে যা কিছু ঘটবে আমাকে বলবে, তোমার মেয়ে বন্ধু বা ছেলে বন্ধু যদি কেউ তোমার সঙ্গে পড়তে চায়, তাকে বাড়িতে নিয়ে আসবে”। আমাদের অনেক বয়স হয়েছে, অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমরা কিছুটা হলেও মানুষ বুঝতে পারি।

তোতন সত্যি সত্যি একদিন ছেলেটাকে নিয়ে এলো। তোতনের রুম আমার পাশেই। তোতন এসে আমাকে জানালো,আমি তোতনের রুমে গেলাম, ছেলেটাকে দেখলাম। মাথাটা সম্পূর্ণ নেড়া, গলায় ও হাতে মোটা চেন, কানে দুল, ঘাড়ে ট্যাটু। আমি ছেলেটাকে নাম পঁযন্ত জিজ্ঞাসা করতে ভুলে গেলাম। আমি আমার রুমে এসে ধপাস করে শুয়ে পড়লাম, তোতন আমার পিছু পিছু এলো। আমি তোতনকে ফ্যানটা ছেড়ে দিতে বললাম, আর এক গ্লাস ঠান্ডা পানি আনতে বললাম। তোতনরা এ যুগের মেয়ে, ও আর কিছু জিজ্ঞাসা করলো না। আমিও ভালো খারাপ কোনটাই বললাম না। তোতনের আব্বা এলো, আমি চুপিচুপি বললাম, “তোতনের রুমে একটা মজার জিনিষ দেখতে পাবে”। মাহবুব বোধহয় ছেলেটার নাম জিজ্ঞাসা করলো। ছেলেটি ইন্ডিয়ান মুসলমান, তোতনের সাথে একই ক্লাসে পড়ে। 

রাতে খাবার টেবিলে মাহবুব জিজ্ঞাসা করলো, “তোতন, ঐ ছোকরাটাকে কোথা থেকে জোগাড় করলে”? তোতন কোন উত্তর দিলো না। চন্দন জিজ্ঞাসা করলো, “আব্বু কী হয়েছে”? এবার মাহবুব কোন কথা বললো না। তোতনের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে, ছেলে দেখে মা-বাবার কারোরই পছন্দ হয় নাই, এটা সে বুঝতে পেরেছে’।

কিন্তু এই ‘ভালোলাগা জিনিষটার আকর্ষণ অসম্ভব বেশী’। আমরা নিয়ম করেছিলাম, আমরা ঘরে থাকলে শুধুমাত্র ওরা ছেলে বা মেয়ে বন্ধু আনতে পারবে’। আমরা যখন বাড়িতে থাকি তোতনের বন্ধু আসে, মাহবুব এমন মুখ করে, অন্য ছেলে হলে পড়ি কি মরি বলে দৌড় দিতো। এ ছেলের বোধ বোধহয় একটু কম। ঐ ছেলের আসা কমলো না। আমি জীবনে অনেক বোকামী করেছি যার ফলে ওদের ‘তিন জনে’ জোট হতে সহজ হয়েছে, এবার আমি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলাম। দেখা যাক পানি কত দূর গড়ায়। 

একদিন আমরা খেতে বসেছি, এমন সময় ফোন এলো, তোতন ফোন ধরলো, ফোন রেখে বললো, “আম্মু ঐ ছেলেটা পড়তে আসতে চাচ্ছে”। 

আমি বললাম, “আসতে বলো আমরা ঘরে আছি”। তোতন বললো, “মা ‘ও’ ডিনার করে আসছে, তুমি খেতে বলো না”। সে দিন আমাদের ডিনার ছিলো পরোটা, গরুর মাংশ আর ভাজি। আমি ভদ্রতা করে ছেলেটাকে খেতে বললাম। ছেলেটা যখন দুটো পরোটা খেয়ে, তৃতীয়টা নিতে যাচ্ছে তখন তোতন আর আমি আর হাসি চাপতে পারছি না, দুজনেই রান্নাঘরে ছুটলাম হাসতে। দুই শত্রু মাহবুব আর ‘ওই’ ছেলে, দুজনই মাথা নিচু করে খাচ্ছে। কেউ কারো সাথে কথা বলছে না। কয়েকদিন পরে ছেলেটা তোতনকে বললো, “I don’t like your dad, he is mean; but your mum is cool”.

…………………চলবে

Dr. Syeda Malihatun Nessa

লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক

প্রবাসে জীবন সংগ্রাম (পর্বঃ উনিশ) http://cbn24.ca/প্রবাসে-জীবন-সংগ্রাম-পর্-13/

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email