বাংলাদেশের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান আসাদের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার

102
AdvertisementCBN-Leaderate

ফারজানা নাজ শম্পা, হ্যালিফ্যাক্স, কানাডা ||

আসাদুজ্জামান আসাদ বাংলাদেশের একজন নিবেদিতপ্রাণ লেখক, গবেষক ও মুক্তিযোদ্ধা। বিভিন্ন সমৃদ্ধ গবেষণা গ্রন্থের পাশাপাশি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনেকগুলি সফল গ্রন্থের রচয়িতা তিনি। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আট নং সেক্টরের অধীনে তিনি যুদ্ধ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য সমগ্র জাতি তাঁর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

দেশাত্মবোধ ও দেশপ্রেমের শুদ্ধ দর্শনে লালিত অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা ও বহুমাত্রিক গুণসমৃদ্ধ  এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব কানাডায় বাংলাদেশের মুখপাত্র সংবাদ মাধ্যম কানাডিয়ান বাংলাদেশি নিউজ CBN24 কে দেয়া সম্প্রতি একটি বিশেষ আলাপচারিতায় সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতার ঐতিহাসিক বিভিন্ন দিক। একই সাথে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে করণীয় পরবর্তী সময়কার প্রাসঙ্গিক কয়েকটি নির্দেশনা তুলে ধরেছেন।

CBN24 এর একজন সংবাদ প্রতিনিধি হিসেবে আমি তাঁর এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছি।

ফারজানা নাজ শম্পা: আসাদুজ্জামান আসাদ ভাই আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা ও সালাম জানাচ্ছি কানাডিয়ান বাংলাদেশি নিউজ এ সাক্ষাৎকার প্রদানে সম্মতি দানের জন্য।

আসাদুজ্জামান আসাদ: আন্তরিক ধন্যবাদ আমাকে ও CBN24 এর সংশ্লিষ্ট সকলকে ও আপনাকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।

ফারজানা নাজ শম্পা: বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ অংশগ্রহণ করার জন্য আপনাকে সবচেয়ে বেশি কোন চেতনা প্রাণিত করেছিল?

আসাদুজ্জামান আসাদ: ১৯৬৮ সাল থেকেই আমি ছাত্র রাজনীতি সঙ্গে যুক্ত ছিলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন  সৈনিক হিসেবে। ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও ৭০ সালের নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা ছিলো। নির্বাচনে জয়লাভ করেও যখন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতা পেলনা তখন থেকেই আমরা ভেতরে ভেতরে প্রকৃত অর্থেই একটা জনযুদ্ধের  প্রস্তুতি নিতে শুরু করি।এরপর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের সঙ্গে সঙ্গে আমরা সঠিক নির্দেশনা পেয়ে যাই এবং মুক্তি যুদ্ধের জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য ট্রেনিং নিতে আরম্ভ করি। আমাদের নিকট বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষণই ছিলো মুলত স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা আর চালিকা শক্তি।

ফারজানা নাজ শম্পা: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আপনার দু-একটি অভিজ্ঞতার কথা আলোকপাত করবেন কি?

আসাদুজ্জামান আসাদ: আমি ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ভারতে যাইনি। আমার মত হাজারো মুক্তিযোদ্ধা দেশের মধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করেছে। স্থানীয় পুলিশ আনসার বিডিআর সদস্যরা আমার বিভিন্ন স্কুল মাঠে প্রশিক্ষণ দিতেন। আমি ছিলাম ৮নং সেক্টরের অধীনে। আমাদের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর মনজুর।

লোহাগড়া থানা আক্রমণ ও দিঘলিয়া বাজারে পাক বাহিনীর ঘাঁটি নির্মাণে কোলা গ্রামে পাক সেনা ও রাজাকারদের আমরা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করি। মুক্তিযোদ্ধাদের কঠোর প্রতিরোধের মুখে কয়েক ঘন্টা  যুদ্ধের পর পাক বাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়। হতাহতদের তারা নিয়ে যায়। আমরা একজন সৈন্যকে ধরে ফেলি এবং কিছু তথ্য সংগ্রহের পর রাতে দিঘলিয়া বাজারের পাশে নবগঙ্গা নদীতে রাতে মেরে ভাসিয়ে দেই। এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর কেউ হতাহত হয়নি।

এছাড়া আমরা ভাটিয়া পাড়ায় পাক বাহিনীর একটি শক্ত ঘাঁটি আক্রমণ করি। দুদিন ধরে যুদ্ধ চলে।

এর আগে আমাদের একটি গ্রুপ যশোরের কাছে দাইতলা নামক স্থানে পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এই যুদ্ধে পাকবাহিনী ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে। যার সামনে মুক্তিযোদ্ধারা টিকতে পারেনি। দাইতলা যুদ্ধে হোসেন নামে আমাদের গ্রামের একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তিনি ছিলেন আমাদের এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ।

এরপর লোহাগড়া থানার কুমড়ি গ্রামে নকশালপন্থীদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। একটি অপারেশন শেষে মুক্তিযোদ্ধারা কুমড়ি গ্রামে এসে বিশ্রাম ছিল এমন সময় নকশালদের অতর্কিত আক্রমণে ঘটনাস্থলে জতু, মহব্বত, মোশাররফ, ইয়ার মৃধা ও মান্নান নামে পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

ফারজানা নাজ শম্পা: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আপনার সহযোদ্ধারা কারা ছিলেন এবং তাঁদের কয়েকজনের বিষয়ে যদি আমাদের জানান?

আসাদুজ্জামান আসাদ: মুক্তিযুদ্ধে আমাদের এলাকায় নামকরা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন লুতফর বিশ্বাস, বাদশা শেখ, সায়েব শেখ, ইউনুস, আতিয়ার রহমান, খোকা, ছালাম কমন্ডার, দিললা, বগা, মহব্বত আলী, আঃ মানান, মোশাররফ শেখ, জতু, ইয়ার মৃধা, আলতাফ মাস্টার প্রমুখ।

ফারজানা নাজ শম্পা: স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গঠনে অবদান রেখেছিলেন অসংখ্য জনমানুষ, অশ্রুত মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা নারী, সাধারণ মানুষ ও অশ্রুত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক স্বীকৃতি দেবার জন্য আমরা বর্তমানে ঠিক কী দায়িত্ব পালন করতে পারি?

আসাদুজ্জামান আসাদ: বাংলাদেশের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিলো মূলত একটি জনযুদ্ধ। যেখানে বঙ্গবন্ধুর আহবানে বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ অংশ গ্রহণ করেছিলো। যাদের ৮০ ভাগ লোকই ছিলো দেশের সাধারণ কৃষক শ্রমিক খেটে খাওয়া মানুষ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব আর আর মনোবলই ছিলো তাদের শক্তির প্রধান উৎস। আমার ও বাংলাদেশের গণমানুষের এখন প্রধান কয়েকটি দাবির মধ্যে আছে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন, বিভিন্ন সময় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্যায়ভাবে ঢুকে পড়া অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেয়া এবং রাজাকারের তালিকা প্রস্তুত করে তা প্রকাশ করা। সকল বীরাঙ্গনা মা বোনদের তালিকা করা এবং যারা জীবিত আছেন তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে ১০০% আর্থিক ও সবরকম সামাজিক সহযোগিতা প্রদান করা।

ফারজানা নাজ শম্পা: দেশে ও প্রবাসে আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরবার জন্য আমাদের কী করণীয় বলে আপনি মনে করেন?

আসাদুজ্জামান আসাদ: প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের যথেষ্ঠ দয়িত্ব রয়েছে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরার।

বিশেষ করে ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসগুলো আলোচনা সভা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করার মাধ্যমে তা আরো ফলপ্রসূ হবে নতুন প্রজন্মের মাঝে। তাদের ঐতিহ্যের শেকড় আর মাতৃভূমির ইতিহাসকে ছড়িয়ে দেবার ব্রত নিয়ে অবগত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিয়মিত মুক্তিযুদ্ধের বই উপহার দেয়া, ছুটির দিন কিংবা অবসর সময়গুলোতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বই পাঠ, ইতিহাসের এই গৌরব গাঁথা গল্প আকারে শোনানো যেতে পারে।

বিশেষ করে পাকিস্তানের ক্রমাগত বৈষম্য অত্যাচার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিষয়গুলো গল্প আকারে পারিবারিক ও অনুষ্ঠানিক পর্যায়ের নিয়মিতভাবে নানা আয়োজনে পাঠ করে শোনানোর চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। এছাড়াও পাকবাহিনীর অত্যাচার, বিশ্বাসঘাতক রাজাকার, আল বদর ও  আল সামস বাহিনীর সারাদেশব্যাপী নৃশংসতা ও জামাতে ইসলাম নামক দলটির নির্মমতার চিত্র আর তাদেরকে উপেক্ষা ও অবহেলিত করার দিকটি বিশেষ গুরুত্ব সহকরে আলোচনা করতে হবে।

ফারজানা নাজ শম্পা: অনেক সফল গ্রন্থের রচয়িতা আপনি, তন্মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কয়েকটি গ্রন্থ আছে। সেই বিষয়ে সামান্য আলোকপাত করবেন কি?

আসাদুজ্জামান আসাদ: আমার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইয়ের মধ্যে আছে

ক) স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমি,

খ) মুক্তিযুদ্ধ ও মিত্রবাহিনী,

গ) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শরনার্থীর শিবির ,

ঘ) একাত্তরের গণহত্যা ও নারী নির্যাতন,

ঙ) সশস্ত্র সংগ্রাম,

 চ) একাত্তরের সন্ধানে

ছ) মুক্তিযুদ্ধ সমগ্র,

 জ) মুক্তি যুদ্ধে যশোর,

ঝ) যুদ্ধ জয়ের প্রস্তুতি ইত্যাদি।

ফারজানা নাজ শম্পা: মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনারা কি ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন? কিভাবে আপনি একজন সশস্ত্র গেরিলা মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হলেন?

আসাদুজ্জামান আসাদ: মুক্তিযুদ্ধে আমরা যেসব অস্ত্র ব্যবহার করেছি তার মধ্যে ছিলো রাইফেল, এসএল আর, স্টেনগান, গ্রেনেড, বন্দুক। প্রথমদিকে প্রশিক্ষণ নিয়েছি খালি হাতে, অতঃপর বাশের লাঠি, এরপরে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কিছু বন্দুক। এরপর জনতা বিভিন্ন থানা এবং মহকুমার অস্ত্রাগার আক্রমন করে তা লুট করে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দেয়। এভাবেই ধীরে ধীরে আমরা একেকজন সশস্ত্র গেরিলা মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হই।

ফারজানা নাজ শম্পা: মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদশে বর্তমানে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ও ইতিহাস রক্ষার্থে আপনার সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা আছে কি?

আসাদুজ্জামান আসাদ: অসংখ্য মা, ভাই, বোনের রক্ত ও অগণিত অশ্রুত মানুষের অমূল্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীন বাংলা দেশে কোন পরিস্থিতিতেই যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী উগ্র কোন অপশক্তির উত্থান না ঘটে। বিকৃতভাবে নয় বরং সঠিকভাবে যেন বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় উপস্থাপিত ও আলোচিত হয় সেদিকে দেশের সরকারের বিশেষ সচেতন দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। সমগ্র বাংলাদেশের সার্বিক মঙ্গল একই সাথে দেশের সোনালী অতীত ও ইতিহাস সংরক্ষণের বিষয়ে আপামর জনগণের সার্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

এই পর্যায়ে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এর লক্ষ্যে গঠিত ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের অনুরোধে জনাব আসাদুজ্জামান তার যুদ্ধকালীন বিভিন্ন অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ তথ্য ও কয়েকটি গবেষণা গ্রন্থ দিয়ে বিশেষভাবে সাহায্য করেছেন।

ফারজানা নাজ শম্পা: CBN24 -এর পক্ষ হতে ভাই আপনাকে আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাই ।

আসাদুজ্জামান আসাদ: আপনাকে আন্তরিক  ধন্যবাদ ও একই সাথে CBN24 -কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের হাজার বছরের শ্ৰেষ্ঠ অর্জন। যে অশ্রুজলের আর রক্তিম আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের সোনার বাংলাদেশের বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার প্রাপ্তি হয়েছে তাঁর স্বরূপ, আদর্শ ও  ইতিহাসের পরম্পরা সমুন্নত রাখার নিরিখে দেশে ও প্রবাসে সকলকে একাত্ম হয়ে শুধুমাত্র দিবস কেন্দ্রিক আয়োজন নয় বরং নিয়মিত জীবন চর্চায় এর প্রচার করে যেতে হবে।

প্রজন্মের কাছে আমরা দায়বদ্ধ, ইতিহাসের আর অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের স্রোতে ভাসমান প্রতিটি রক্তবিন্দুর কাছে আমরা ঋণী, আমাদের হৃদয়ঙ্গম করতে হবে ইতিহাসের সঠিক বিকাশই কেবল একটি জাতিকে তাঁর আত্মপরিচয়ের সুদৃঢ ভিত্তি গঠন করে আমাদের সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানোর দীক্ষা দান করে।

https://www.facebook.com/cbn24.ca
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
CBN-Leaderate