বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী: আমাদের প্রত্যয়

AdvertisementCBN-Leaderate

সৈকত রুশদী, টরন্টো থেকে ||

১.

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের ৫০তম বার্ষিকী সুবর্ণ জয়ন্তীতে আজ আমাদের সকলের ফিরে তাকানো প্রয়োজন স্বাধীনতার সেই ঊষালগ্নের দিকে। কী ছিল আমাদের প্রত্যাশা, কী পেয়েছি, কী পাইনি এবং কেন পাইনি।

তার ব্যবচ্ছেদের মাধ্যমেই সম্ভব বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো বাংলাদেশ এবং সেদেশের মানুষকে আগামী দশক, শতক ও সহস্র বছরের দিকে মর্যাদার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

২.

বাঙালি যে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিল হাজার বছর ধরে, তা’ মূর্ত হয় ২৬ মার্চ ১৯৭১।

এই ভূখণ্ডে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি ছয়-দফার ভিত্তিতে স্বায়ত্ত্বশাসনের যে সনদ পেয়েছিল, তা’ বানচাল করে দিতে চেয়েছিল পাকিস্তানের সামরিক শাসক ও তাদের সহযোগী ও তাঁবেদার রাজনৈতিক, আমলা ও অবাঙালি গোষ্ঠীগুলো।

১৯৭১ সালের মার্চ মাস শুরু থেকেই ছিল অগ্নিগর্ভ। পাকিস্তানের নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলে নির্বাচনে বিজয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ করে পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী। এই ফাঁকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসে প্রশিক্ষিত অবাঙালি সৈন্য, অস্ত্র ও গোলাবারুদ।

পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী পূর্ব পরিকল্পিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বাস্তবায়নের নামে গণহত্যা যজ্ঞ শুরু করে ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে। ট্যাংক, কামান, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, ফ্লেয়ার বোমা নিয়ে হাজার হাজার প্রশিক্ষিত অবাঙালি সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র এবং যুদ্ধের জন্য অপ্রস্তুত বাঙালির উপর। গণহত্যার প্রথম রাত্রে কেবল ঢাকা মহানগরীতেই হত্যা করা হয় ২০ থেকে ৩০ হাজার নাগরিককে।

পাকিস্তানী সামরিক সরকার বন্দী করে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় তাঁকে বন্দী করে রাখে পাকিস্তানে।

৩.

রাজনৈতিক বিজয়ের পরও প্রতারণার শিকার এদেশের স্বাধিকার প্রিয় মানুষ একটুও দমে না গিয়ে পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে এইদিন থেকেই গড়ে তুলেছিল সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রাম।

যার মূল মন্ত্র ছিল ৭ মার্চ ১৯৭১ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ। স্বাধীনতা সংগ্রামের আহ্বান।

পঁচিশে মার্চ রাত্রেই ঢাকা ও চট্টগ্রামে জনতা, ইপিআর ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। তবে সেই রাতেই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। মধ্যরাতের পরই যার অবস্থান থেকে যুদ্ধে যোগ দেন পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের বেশিরভাগ।

সেই সময়ের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি ছিল চট্টগ্রাম বেতারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এম এ হান্নান ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নামে এই ঘোষণা প্রচার করলেও তা’ ভিন্ন মাত্রা পায় বাঙালি সৈন্য কর্মকর্তা মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে।

২৭ মার্চ ১৯৭১ কালুরঘাট বেতারযন্ত্র থেকে প্রথমে নিজেকে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে অভিহিত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন মেজর জিয়া। পরে সেদিনই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পরামর্শে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর নামে তিনি আবার স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বিপন্ন বাঙালির সহায়তা ও স্বাধীনতা অর্জনে বিশ্বের সকল দেশের সহায়তা কামনা করেন।

মেজর জিয়াউর রহমানের স্বকণ্ঠে ও স্বপরিচয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা বাঙালি সৈন্য ও স্বাধিকারকামী মানুষকেই কেবল ঐক্যবদ্ধ করেনি, প্রাণ বাঁচাতে আত্মগোপনকারী রাজনীতিকদেরও সাহসী করে তোলে। পরে বাংলাদেশের সরকার গঠনকালে সেকথা উল্লেখ করেছেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ।

৪.

তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশনা না পাওয়া সত্ত্বেও এবং পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো প্রতিরোধ সংগ্রামের নীল-নকশা ও সমন্বয় না থাকে সত্ত্বেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন বাঙালি সৈন্য ও কর্মকর্তারা।

যুদ্ধে পরাজিত হলে অথবা ধরা পড়লে পাকিস্তানের কোর্ট মার্শালে মৃত্যুদণ্ড অনিবার্য জেনেও অকুতোভয় বাঙালি সৈন্যদের এই বিদ্রোহ ও বিজয় পৃথিবীর ইতিহাসে অভূতপূর্ব। বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিলেন অসামরিক কর্মকর্তারাও।

তাঁদের প্রত্যেকের এই অবদান ইতিহাসে লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। নানা জনে নানা সময়ে সেই গৌরবে কালিমা লিপ্ত করার চেষ্টা করলেও কেউ তা’ মুছতে পারবে না।

কেননা তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান, লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের গৌরবের সাথে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে রচিত হয়ে আছে রক্তাক্ষরে। চিরকাল বেঁচে থাকবে বাঙালির হৃদস্পন্দনের সাথে।

৫.

বাংলাদেশ নামের নতুন এক রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অভ্যুদয় ঘটে ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম সরকার গঠন হয় ১৭ এপ্রিল ১৯৭১।

সেসময়ে মুক্তাঞ্চল কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলা আমবাগানে প্রথম বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করে। অনুপস্থিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গঠন করা হয়।

শপথের স্থানটিকে মুজিবনগর নামকরণ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

মুজিবনগর স্থানটি ২১৪ বছর আগে, ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে, বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার স্থান পলাশী থেকে আকাশপথে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে। আমার জন্মভূমি মেহেরপুর নগরী থেকে দূরত্ব মাত্র ১৬ কিলোমিটার।

আর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন হয় নয় মাসব্যাপী রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধের পর, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সহযোগিতায়।

যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে ঢাকায় সেই রেসকোর্স ময়দানে, ভারত ও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমাণ্ডের কাছে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে।

এই যুদ্ধের সময় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল।

এতো মানুষকে আশ্রয় ও খাদ্যের সংস্থান ছাড়াও বাংলাদেশের প্রথম সরকারের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন ও মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং সর্বোপরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করতে ভারতের অবদান অবিস্মরণীয়।

তবে এক কোটি শরণার্থীর চাপ ও তাদের প্রতি মানবিক সহায়তার ইচ্ছার সাথে ভারত চিরশত্রু পাকিস্তানকে বিভক্ত করার রাজনৈতিক ও সামরিক সুযোগ কাজে লাগাতে চেয়েছিল বলেই শেষ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল সন্দেহ নেই।

৬.

তখন আমি নিতান্তই বালক। সাড়ে এগারো বছর বয়স। ঢাকার তেজগাঁওয়ে ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজের (বর্তমানে বিজ্ঞান কলেজ) অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। যুদ্ধের পুরো নয়মাস কেটেছে ঢাকার বনানীতে নানা বাড়িতে।

ঢাকার দিকে অগ্রসরমান বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছ থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রক্ষার জন্য পাকিস্তানী বাহিনীর সম্ভাব্য সম্মুখ যুদ্ধে গুলশান-বনানীতে রক্তগঙ্গা বয়ে যেতে পারে এই আশংকায় নিরাপত্তার জন্য সপরিবারে ডিসেম্বরের ৬ তারিখ থেকে রমনায় বেইলী রোডে গুলফিশান ভবনে সপ্তাহ দুয়েকের আশ্রয় নেয় আমাদের পরিবার।

কিন্তু সেখানে গিয়ে যেন বাঘের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘোগের বাসায় গিয়ে পড়লাম। পাশেই শাহবাগে রেডিও পাকিস্তান ভবন (বর্তমানে জাতীয় সম্প্রচার কর্তৃপক্ষ ভবন) ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে (বর্তমানে সুগন্ধা) ভারতের মিগ বিমানের হামলায় প্রাণ যেন হাতের মুঠোয় চলে আসলো। এক দিন পরই অবশ্য বিমান হামলা বন্ধ। সব শান্ত। থমথমে পরিবেশ ঢাকা মহানগরীতে।

এলো বিজয়ের দিন। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১।

গুলফিশান ভবনের বারান্দা থেকে দুপুরের পর দেখলাম লুঙ্গি ও হাফহাতা গেঞ্জি পরা, কাঁধে স্টেনগান ঝোলানো দুই মুক্তিযোদ্ধা। কথা বলে জানলাম তাঁরা তৃষ্ণার্ত, ক্ষুধার্ত। মা ও মামীর পরামর্শে তাঁদের ডেকে ভাত খেতে দিলাম। এখন অনুমান করি সেই দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনীর অগ্রবর্তী দলের যোদ্ধা।

বিকেলে পরাজিত পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঠিক আগে, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে পাকিস্তানী বাহিনীর অতর্কিত গুলিবর্ষণ।

সন্ধ্যার আগেই জয় বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত চারিদিক। অফিসার্স ক্লাবের সামনে আবার গুলি। সে এক সময়! দুরু দুরু বুকে দেখেছি গুলফিশান ভবনের বারান্দা থেকে। পিছন থেকে।

নিজের তিন মামা, ঐ ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপ্ত বাসিন্দা উপসচিব মুজিবুর রহমান খালু ও আমাদের মতো আশ্রয় নেওয়া তাঁর শ্যালক, সকলেই গেলেন রেসকোর্স ময়দানে ইতিহাসের সাক্ষী হতে।

আমাকে নেওয়া হলোনা ছোট বলে। তাঁরা ফিরে এসে বর্ণনা করলেন যুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পণের আগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল চত্বরে গুলিবর্ষণের ফলে সৃষ্ট বিপদজনক পরিস্থিতি, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান ও পরের রোমহর্ষক সব অভিজ্ঞতা!

৭.

জরিপের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ণয় করা না হলেও অনুমান করা হয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার শিকার হয়েছেন প্রায় ৩০ লাখ বাঙালি। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের দুই থেকে চার লাখ নারী। অকথ্য নির্যাতনে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন, আহত হন ও বেঁচে যান আরও অগণন মানুষ।

বাংলাদেশ নামের আমার প্রিয় দেশটির পঞ্চাশতম জন্মদিন এই স্বাধীনতা দিবসে পরম শ্রদ্ধা জানাই স্বাধীনতা যুদ্ধে অমর শহীদ ও নির্যাতিত প্রতিটি নারী ও পুরুষকে।

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নেওয়া এবং ত্যাগ স্বীকারকারী প্রতিটি মানুষের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা।

আরও শ্রদ্ধা জানাই স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী রাজনীতিক ও সংগঠকদের দলমত নির্বিশেষে। তাঁদের অবদান ছাড়া আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করতে পারতাম না।

৮.

রক্তাক্ত সেই অধ্যায় পেরিয়ে তখন আমাদের সকলের দু’চোখ ভরা নতুন স্বপ্ন। নতুন দেশ বাংলাদেশকে নিয়ে। অনেক-চড়াই উৎরাই পেরিয়ে, ভৌগলিক ও রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন একটি দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির দুয়ারে অভিযাত্রা। কিন্তু আমরা এক পা অগ্রসর হলে পিছিয়ে যাই আবার দুই পা।

দু:খ রয়ে গেছে, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক পার হলেও আমরা এখনও অর্জন করতে পারিনি নারী ও পুরুষের সমতা। শোষণমুক্ত একটি সমাজ। যেখানে লিঙ্গ, ধর্ম, পেশা ও জাতিগত পরিচয়্ভেদে সকলের জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা, জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল প্রকৃত গণতন্ত্র, জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল সরকার এবং ভয়-ভীতিহীন একটি নিরাপদ বাসযোগ্য পরিবেশ।

সকলের জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা। শিশু থেকে প্রবীণ পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন দেখার ও তা’ বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা।

প্রতিদিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক, বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু অথবা গুম হয়ে যাওয়ার আতংকময় বাংলাদেশ তো আমরা চাইনি!

আর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা অথবা ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে মানুষের অধিকারকে পদানত করে রাখা কতিপয় উত্তরাধিকার সূত্রে রাজনীতিক বনে যাওয়া ব্যক্তির ইচ্ছা ও অনিচ্ছার কাছে বন্দী হওয়ার জন্য নিশ্চয় আমদের শহীদরা আত্মত্যাগ করেননি!

৯.

আসুন, এই স্বাধীনতা দিবসে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যয় ঘোষণা করি শহীদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায়। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সাথে যুক্ত প্রতিটি নারী ও পুরুষের প্রত্যেককে যার অবদানের জন্য মর্যাদা প্রদান ও রক্ষায়।

আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকলে একসাথে কাজ করি।

শোষণমুক্ত সমাজ এবং দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি মুক্ত একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি। দুর্নীতিকে না বলি।

আমাদের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাই যার নিজ অবস্থান থেকে। নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে, স্বাধীনতা যুদ্ধে যেরকম ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সমর্থন দিয়েছি, সেই ঐক্যবদ্ধ চেতনার বহি:প্রকাশ ঘটাই দেশটাকে নতুন করে গড়ে তুলে।

তবেই আমাদের স্বপ্নের স্বাধীনতা প্রকৃত অর্থবহ হয়ে উঠবে।

টরন্টো
২৬ মার্চ ২০২১

https://www.facebook.com/cbn24.ca
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email
CBN-Leaderate