ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ আর ২১শে ফেব্রুয়ারি

1008
AdvertisementLeaderboard

ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ আর ২১শে ফেব্রুয়ারি

-ফারজানা নাজ শম্পা

এক দিন বাংলা ভাষার প্রশ্নে সবাই
জেগেছিলো
একদিন বাংলাদেশের রাজপথ জেগেছিলো
সহস্র নামহীন মানুষের গর্জনে
একদিন এই ফাল্গুনেই বাংলাদেশের
আকাশ বাতাস বিদীর্ণ করে দু একটি শব্দই
প্রতিধ্বনিত হয়েছিল
‘না না না রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।
‘মাতৃভাষা বাংলা চাই’।
সেইদিন প্রতীক্ষারত অনেক মায়ের কাছে
ফেরেনি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার সহ
অনেক তরুণ
সেইদিন প্রিয়তমার অনেক আকাঙ্খার
লাল চুড়ি নিয়ে ঘরে ফেরেনি তার প্রিয়তম
মার আঁচলতলে পরম নির্ভরতায় লালিত
একটি ছোট ‘রংধনু বর্ণের’ ঘুড়ির জন্য
অপেক্ষারত শিশুটি তার বাবাকে আর
দেখেনি
নামহীন একজন পথিক তার গন্তব্য
পরিবর্তন করে বেছে নিয়েছিলেন
বাংলা ভাষার রক্ষার মিছিলকে।
অনেক মুক্তিকামী মানুষ মিছিলে ছিলেন,
চেনা বা অচেনা
সেই দিন মিছিলের দাবী অথবা
ভাষা ছিলো একটাই
‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই, মায়ের ভাষা বাংলা চাই’
তারপর মুহুর্মুহু গর্জন উঠেছিল পাকিস্থানি
হানাদার শাসক চক্রের নিয়ন্ত্রিত নির্মম
গুলিবর্ষণ
ধুলায় লুটিয়ে পড়া মৃত্যুপথযাত্রী মানুষগুলোর
কষ্টজড়িত অস্ফুট কণ্ঠে
শেষ মুহূর্তেও উচ্চারিত ছিলো
শুধু এক কথা ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’।
পরদিন শহীদদের রক্তে স্নাত
রাজপথে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাঙ্গণে
নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারকে
সারারাত অতন্দ্র প্রহরীর মতো
রক্ষা করেছিলেন
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র
ভাষাসৈনিক মকসুদুর রহমান ও তার সহযোদ্ধারা।
সেই দিনটি ছিল ২১ সে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সাল
বাংলা ভাষার প্রশ্নে আমরা সবাই ছিলাম
ঐক্যবদ্ধ,
কিন্তু সেই রক্তের আর অনন্য সাধারন
মানবতার ঋণ কি আমরা পরিশোধ করেছি?
বাংলা ভাষা আজ শৃঙ্খলিত অশালীন
বিকৃতির আবর্তে আমরা আজ ক্রীতদাস হয়েছি।
পুঁজিবাদী বাণিজ্যিক চটুল প্রচারের ভাষার প্রশ্নে
নতুন প্রজন্ম যেন ক্রমশই শক্তিহীন
বাংলার সহজ প্রকাশ অনেকের কাছেই আজ কঠিন
অথবা লজ্জার,
প্রয়োজন আরকটি গর্জন আর আন্দোলন।

(আমার বাবা প্রয়াত অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তার বিশেষ স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার এই সামান্য প্ৰচেষ্টা মাত্র।)

ফারজানা নাজ শম্পা 
ফ্রিল্যান্স লেখক ও গবেষক 
হ্যালিফ্যাক্স, কানাডা
Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email