রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে টরন্টোয় বিক্ষোভ

AdvertisementLeaderboard

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সহিংসতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কানাডার টরন্টো শহরে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর যে ধরনের অত্যাচার, নির্যাতন ও মানবিক বিপর্যয় ঘটে চলেছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। চলমান এই সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে কানাডা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

২৭ নভেম্বর রোববার টরন্টোর ড্যানফোর্থে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহমর্মিতা জানান স্ক্যারবোরোর সংসদ সদস্য সালমা জাহিদ। প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা কানাডা সরকারের এক উপকমিটি রোহিঙ্গা ইস্যু পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন সংসদে পেশ করেছে। ইতোমধ্যে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ডিয়ন এক টুইটার বার্তায় রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষার্থে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সালমা জাহিদ আরও জানান, রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় যা যা পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন তা কানাডা সরকার যথাযথভাবে নেবে। নির্যাতনের শিকার মিয়ানমারের কিছু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে কানাডা রিফিউজি হিসেবে গ্রহণ করতে পারে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে সালমা জাহিদ বলেন, বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষায় কানাডা সব সময়ই গুরুত্ব ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই যে কোনভাবেই কানাডা মানবিকতার স্বার্থে এগিয়ে আসবে।

সারাবিশ্বে যেখানেই মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার আওয়াজ তোলার আহবান জানান বক্তারা। আর এজন্য কানাডা সরকারের পাশে থেকে সবাই কাজ করবেন বলে জানান কানাডার বাংলাদেশিদের নিয়ে গঠিত ফেইসবুক গ্রুপ বিসিসিবি’র প্রতিনিধি রিমন মাহমুদ।

মিয়ানমার সরকারের এমন কর্মকাণ্ডের ধিক্কার জানান অন্য বক্তারা। অনেকে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সূচীর শান্তির জন্য পাওয়া নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেওয়ারও দাবি জানান। অতি শিগগির রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধে উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানান বক্তারা। এছাড়া রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক আশ্রয় দিতে বাংলাদেশ সরকারকেও অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

প্রতিবাদ সমাবেশটির অন্যতম আয়োজক মনির ইসলাম বলেন, কানাডার মত দেশে যেখানে কোন একটি পশু বা পাখির ওপর কোন ধরনের নির্যাতন দণ্ডনীয় অপরাধ, সেখানে সরকারি বাহিনীর নেতৃত্বে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে যা মেনে নেয়া কষ্টকর। এক বক্তব্যে কানাডার বাংলা টেলিভিশন এনআরবি টিভির প্রধান নির্বাহী শহিদুল ইসলাম মিন্টু কানাডা সরকারকে মিয়ানমার সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টির আহবান জানান যাতে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার সুরক্ষিত হয়।

সমাবেশে অংশ নেয়া রোহিঙ্গা কমিউনিটির সদস্যরা বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ারও অনুরোধ জানান তারা।

আগামী রোববার, ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৩ টায় টরন্টোর ডানডাস স্কয়ারে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরেকটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের অর্থ সাহায্য দিতে আগামী ১১ ডিসেম্বর রোববার এক ফান্ডরাইজিং অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে বলে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে জানানো হয়। এসব আয়োজনে বাংলাদেশিদের পাশে থাকার আহবান জানান সমাবেশের আয়োজকরা।

Facebook Comments
Print Friendly, PDF & Email